জামায়াতে ইসলামী
রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডা: শফিকুর রহমান। নয়া দিগন্ত

মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের উপর হামলার ঘটনায় অতি দ্রুত মামলা নিয়ে দুষ্কৃতিকারীদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান। 

Advertisement

তিনি বলেন, ঘটনায় থানায় অভিযোগ জমা দেয়া হলেও পুলিশ এখনো মামলা নথিভুক্ত করেনি বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহত শাহরিয়ার জামান রানাকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে আহত করার পরও থানায় অভিযোগ জমা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি। আখতারুজ্জামান পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে, এমনকি ডিআইজির সাথেও কথা বলেছেন। মামলা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। প্রশাসন দুষ্টের পক্ষে, নাকি শিষ্টের পক্ষে—এ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, আখতারুজ্জামানের নিজের জমিতে প্রতিষ্ঠিত কচিহাটা কলেজে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কলেজ পর্যন্ত শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এলাকার কিশোর ও তরুণদের সুস্থ বিনোদনের জন্য সেখানে একটি বড় খেলার মাঠও করা হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে মাদক সেবন ও বিক্রির  সাথে জড়িত ব্যক্তিরা মাঠে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক উৎপাত করছিল। এ নিয়ে এর আগে দুই-তিনবার আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে তাদের সতর্ক করেছিলেন। এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে তারা হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী না হলেও কারো না কারো আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হামলা হয়ে থাকলে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা প্রশাসনের দায়িত্ব। তিনি দ্রুত মামলা নথিভুক্ত, হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং তাদের পেছনে কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান।

এ সময় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে আখতারুজ্জামানের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জামায়াত আমির।  

ডা: শফিকুর রহমানের অভিযোগ, ওই মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাওয়া হলেও আইনজীবীদের সামনে অভিযোগের পক্ষে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়নি। তবে তার প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরে লাগেজ সরবরাহে শৃঙ্খলা ফিরেছে, ১০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাওয়া যাচ্ছে, ট্রলির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের বডি ক্যামেরা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, হামলাকারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সরাসরি নেতাকর্মী না হলেও কোনো না কোনো রাজনৈতিক ছায়াতলে আশ্রয় পাচ্ছে। তার ছেলের সাথে থাকা ব্যক্তিরা হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন। এ কারণে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, থানার ওসি ১২ জনের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে মামলা করার কথা বলছেন। ওসির নির্দেশনায় মামলা হতে পারে না। কারো নাম অন্যায়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে পুলিশ তদন্ত করে তা যাচাই করতে পারে; কিন্তু মামলা থেকে নাম বাদ দেয়ার এখতিয়ার পুলিশের নেই। এ ধরনের চাপকে তিনি আইনের ওপর হস্তক্ষেপ ও ন্যাক্কারজনক আচরণ বলে উল্লেখ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিরষদ সদস্য মাওলানা মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন সোহেলসহ মহানগরীর দায়িত্বশীলবৃন্দ।