
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের নেকাব পরিহিত শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও সন্ত্রাসী অপবাদ দেয়ার ঘটনায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি তিনি একথা বলেন।
নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি বলেন, ‘বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুব কর্তৃক ক্লাসরুমে হিজাব-নেকাব পরিহিত ছাত্রীকে কটাক্ষ করা হয়েছে। এসময় তাকে ফান্ডামেন্টালিস্ট ও সন্ত্রাসী ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা করা হয়। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্খিত ও নিন্দনীয়।’
তিনি বলেন, ‘নিজ নিজ ধর্মচর্চা করা এবং পোশাক নির্বাচন প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। অতীতের বুলিং ও ট্যাগিংয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে দেশ যখন সামনের দিকে এগোচ্ছে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রগতিশীলতার নামে হিজাব-নেকাব বিদ্বেষের কোনো সুযোগ নেই। বরং এ বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যে অভিযুক্ত শিক্ষক নেটওয়ার্ক নেত্রী তাসনিম সিরাজ মাহবুবের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও হিজাবোফোবিয়ার বহিঃপ্রকাশ।’
মহিলা জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল দেশ থেকে সমস্ত ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির মূলোৎপাটনের জন্য। এত আত্মত্যাগের পরেও এখনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির ধারক বাহকেরা বহাল তবিয়তে আছেন। আমরা মনে করি, পোশাক নির্বাচন প্রতিটি মানুষের নিজস্ব বিষয়। নেকাব পরিহিত শিক্ষার্থীকে কটাক্ষ করা এবং সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়া অত্যন্ত হীন মানসিকতার পরিচয়।’
নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, ‘আমরা তাকে তার মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান করছি। একই সাথে অভিযুক্ত শিক্ষক যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য করার সাহস না পায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘একই সাথে সহপাঠীদের ওপর সংঘটিত এ আচরণের প্রতিবাদে শ্রেণিকক্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থান ও ক্লাস বর্জনের সাহসিকতাকে আমরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।’
শিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, ‘এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করুন।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








