
আফগানিস্তানের তালেবানদের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি ও সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের আঙ্গুর আড্ডা এলাকায় তালেবানদের গুলিবর্ষণের জবাবে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান ও পারাচিনারের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই হামলা চালানো হয়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বেতার কেন্দ্র ‘রেডিও পাকিস্তান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার আঙ্গুর আড্ডা এলাকায় তালেবানদের উসকানিমূলক গুলিবর্ষণের ‘উপযুক্ত জবাব’ দিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে তালেবান সদস্যদের তাদের ঘাঁটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাতে অভিযানে আফগানিস্তানের তালেবানদের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী দেশের প্রতিরক্ষা ও জনগণের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।
পাকিস্তানের দাবি, মঙ্গলবার আঙ্গুর আড্ডা সীমান্ত এলাকায় আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সীমান্ত চৌকি ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে স্থানীয় এক ব্যক্তি নিহত হন এবং একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য আহত হন।
কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থিত বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে স্নাইপার, ছোট ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিগুলো লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এর জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী তাৎক্ষণিক পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। আর্টিলারিসহ বিভিন্ন ছোট ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে তালেবানের বেশ কয়েকটি সীমান্ত চৌকি, মর্টার অবস্থান ও প্রতিরক্ষা বাঙ্কারে হামলা চালানো হয়।
খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি তালেবানদের গুলিবর্ষণের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান তার জনগণের ওপর হামলা বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা কখনোই সহ্য করবে না।
এদিকে, এ ঘটনা নিয়ে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া একটি বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ওই বিবৃতিতে পাকিস্তানকে আক্রমণকারী হিসেবে দাবি করা হয়েছিল। পাকিস্তান সেই দাবিকে ‘মিথ্যা বানোয়াট তথ্য’ বলে অভিহিত করেছে।
আঙ্গুর আড্ডা সীমান্তটি পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পথ। এটি প্রধান বাণিজ্যিক রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রও এটি।
সূত্র : দ্য ডন
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








