ফুটবল
অবশেষে বাংলাদেশের উজবেকিস্তান জয়। নয়া দিগন্ত

নব্বইয়ের দশকে সেভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর ফের স্বাধীন দেশ হিসেবে আবির্ভাব উজবেকিস্তানের। এবারের বিশ্বকাপে খেলেছে তাদের পুরুষ দল। উজবেক যুব দলও একাধিকবার বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছে। এই দেশটির বিপক্ষে বাংলাদেশ বেশ কয়েকবারই খেলেছে। কিন্তু জয়ের দেখা আর হচ্ছিল না। 

Advertisement

গত কয়েক বছরে দফায় দফায় সেই দেশে যাওয়া বাংলাদেশের নারী ও পুরুষ ফুটবল দলের। সেখানে হতাশা ছাড়া আর কিছুই জোটেনি। অবশেষে নারী ফুটবলে এলো মধ্য এশিয়ার দেশটির বিপক্ষে প্রথম জয়। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ৫১-তে থাকা দলটিকে গতকাল তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল। 

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবলের ‘এইচ’ গ্রুপের এই ম্যাচ জিতে মেঘলা রানী রায়রা ফের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলার স্বপ্ন দেখছে। এজন্য অবশ্য ১১ তারিখে সাইফুল বারী টিটুর দলকে জিততে হবে ফিলিপাইনের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইন ৪-০ গোলে হারিয়েছিল উজবেকদের। ফলে দুই হারে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান।

আলপি, আলমিনা, রুনাদের গতকাল তাশখন্দের দোস্তিক স্টেডিয়ামের ট্রেনিং সেন্টার মাঠে এই জয় সর্বশেষ নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে আফঈদা খন্দকারদের হারেরই বদলা। 

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল উজবেকিস্তানের কাছে ০-৪ গোলে হেরে। এএফসির আসরে ২০১৯ সালের পর ফের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার আশা জিইয়ে রাখতে বাংলাদেশকে জিততেই হতো উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। এই মিশনে ম্যাচের ৪ মিনিটের মাথায়ই বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। পূর্ণিমা মারমার পাস থেকে দলকে এগিয়ে নেন মোসাম্মদ আল মিনা। তবে ডিফেন্ডার আইরিন খাতুনের ভুলে বাংলাদেশ এই লিড ধরে রাখতে পারেনি। 

১৭ মিনিটে বক্সের বাইরে বল পেয়ে তিনি পাশে পাস না দিয়ে কাটাতে যান উজবেক প্রতিপক্ষকে। তবে তার কাছ থেকে সেই বল কেড়ে নেন ফারানজিজ লাকেয়েভা। এরপর বল ধরে বক্সে ঢুকে বাম পায়ের শটে পরাস্ত করেন গোলরক্ষক মেঘলাকে। মেঘলা বাম দিকে শরীর ফেলেও কিছু করতে পারেননি। ৩৭ মিনিটে উজবেকিস্তানের বিপজ্জনক কর্নার ক্লিয়ার করেন মেঘলা।

১-১ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মুডে ছিল উজবেক মেয়েরা। তবে সুবিধা করতে পারছিল না। বাংলাদেশ দলও গোলের চেষ্টা করতে থাকে। ৬৮ মিনিটে স্ট্রাইকার আলপি আক্তারের শট রুখে দেন উজবেক কিপার। ৭৯ মিনিটে কোচ টিটু দুই খেলোয়াড় বদল করেন। ফাতেমা ও পূর্ণিমাকে তুলে মাঠে নামান স্ট্রাইকার রুনা আক্তার ও নূর জাহান আক্তার মনিকে। 

এই রুনাই বাংলাদেশকে এনে দেন ঐতিহাসিক জয়। ইনজুরি টাইমের ৬ মিনিটের খেলায় বাংলাদেশ জয়সূচক গোল পায় ৯৩ মিনিটে। বদলি ডিফেন্ডার সৌরভী রানীর দারুণ এক লব থেকে বল ধরে বক্সে ঢুকে জাত স্ট্রাইকারের মতো আগুয়ান গোলরক্ষক খালখুলোভা মারিয়ার বাম পাশ দিয়ে মাটিঘেঁষা শটে বল জালে পাঠান। সাথে সাথে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের বাঁধভাঙা উল্লাস, আর হতাশায় নুয়ে পড়ে উজবেক মেয়েরা।

কোচ টিটু অবশ্য জয়ে খুশি হলেও দলের পারফরম্যান্সে খুশি হতে পারেননি। জানান, ‘বাজে গোল হজম করেছি। এখন ফিলিপাইনের বিপক্ষে জিততে হলে আরো ভালো খেলতে হবে।’