শুকি ইতোফুসা
শুকি ইতোফুসা। সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ। অনুশীলনে নেমে নিজেদের ফিটনেস ও কন্ডিশনিং নিয়ে কাজ করেছেন ফুটবলাররা। একই সাথে টেকনিক্যাল অনুশীলনেও মনোযোগ দিয়েছেন হামজা-সোহেলরা।

এদিকে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচেই জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে জাপান প্রবাসী ফুটবলার শুকি ইতোফুসার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফাহমেদুল ইসলামের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ২২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

৪৫ মিনিট মাঠে থেকে দলের আক্রমণে কিছুটা গতি যোগ করলেও ম্যাচের ফল বদলাতে পারেননি তিনি। তবে ফলের চেয়ে জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবার মাঠে নামার অনুভূতিই শুকির কাছে বড়। ছোটবেলা থেকেই বাংলাদেশের জার্সি পরে খেলার স্বপ্ন ছিল তার।

শুকি বলেন, ‘আমি আসলে কখনো এভাবে ভাবিনি যে আমার অভিষেক হয়ে যাবে এ ম্যাচেই। তবে আমি প্রস্তুত ছিলাম দেশের জন্য লড়তে।’

অভিষেকের ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্য সন্তুষ্ট নন শুকি। আরো উন্নতির জায়গা দেখছেন তিনি। বিশেষ করে ফিটনেস ও কন্ডিশনিংয়ে উন্নতি করে পরের ম্যাচগুলোতে গোল কিংবা অ্যাসিস্টের মাধ্যমে দলের জন্য অবদান রাখতে চান এই তরুণ।

তার ভাষায়, ‘ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের জার্সি পরা ও সেই জার্সিতে মাঠে খেলার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। তবে ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে বললে, এখনো কিছু জায়গায় আমার উন্নতির প্রয়োজন। ফিটনেসে উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে চাই। পাশাপাশি গোল বা অ্যাসিস্টের মাধ্যমে দলের জন্য অবদান রাখতে চাই।’

জাপানে বেড়ে ওঠা শুকির জন্য বাংলাদেশ দলের সাথে মানিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ভাষাও একটি চ্যালেঞ্জ। বাংলা শেখা হয়নি তার, ইংরেজিতেও স্বচ্ছন্দ নন। তবে সতীর্থরা ইংরেজি ও সহজ ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ করছেন। সতীর্থদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে দলের সাথে মানিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

শুকি বলেন, ‘আসলে আমি জানি আমার সতীর্থরা জাপানিজ ভাষা বলতে পারে না। তারা ইংরেজি বা সহজ কিছু ইশারা-ইঙ্গিত ব্যবহার করে, যতটুকু আমি বুঝতে পারি। অনেকেই সবসময় আমার খেয়াল রাখে এবং কথা বলে। তাই এখন আমি মোটামুটি তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছি। সময়টা খুব উপভোগও করছি। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হারের পর বাংলাদেশের সামনে এখন সিঙ্গাপুর পরীক্ষা। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।

প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে বাংলাদেশ। আর অভিষেকের আক্ষেপ পেছনে ফেলে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্যের আরো ভালো প্রমাণ দিতে চাইবেন শুকি।