গাব্রিয়েল জেসুস ও লামিন ইয়ামাল
গাব্রিয়েল জেসুস ও লামিন ইয়ামাল ছবি: সংগৃহীত

গোলের উৎসব যেন থামছেই না বার্সেলোনার। এবার রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে লা লিগায় নবাগত রেসিং সান্তানদের ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিলো হান্সি ফ্লিকের দল। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন জুয়াও কান্সেলো। একটি করে গোল পেয়েছেন গাব্রিয়েল জেসুস ও লামিন ইয়ামাল।

মৌসুমে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলেছে বার্সেলোনা। এর মাঝে পাঁচ ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে অন্তত পাঁচবার বল পাঠিয়েছে তারা। সাত ম্যাচে মোট গোল করেছে ৩৩টি, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র সাতটি।

সেই সাথে লা লিগায় টানা ছয় ম্যাচ জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরো শক্ত করেছে বার্সেলোনা। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে রিয়াল মাদ্রিদ।

অন্যদিকে লা লিগায় তৃতীয়বারের মতো হারল রেসিং। ছয় ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে দশম স্থানে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কাম্প ন্যুতে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেসিংকে চাপে রাখে বার্সেলোনা। প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে তারা নেয় ৩০টি শট, যার নয়টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে রেসিংয়ের পাঁচ শটের তিনটি ছিল লক্ষ্যে।

অষ্টম মিনিটেই আসে প্রথম গোল। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জুয়াও কান্সেলোর দুর্দান্ত শট ক্রসবারে লেগে জালে জড়ায়। এরপরও আক্রমণের ধার কমেনি। তিন মিনিট পর ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন রাফিনিয়া। পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।

৩০তম মিনিটে ম্যাচে প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য আক্রমণ তৈরি করে রেসিং। বার্সেলোনার রক্ষণ ভেদ করে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোল করেন মিডফিল্ডার গেয়ি। তবে ছয় মিনিট পরই আবার ব্যবধান বাড়ায় বার্সেলোনা।

দূরপাল্লার শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কান্সেলো। তার জোরাল শট এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢোকে। ৪২তম মিনিটে ব্যবধান আরো বাড়ান রাফিনিয়া। দানি ওলমোর পাস ডি-বক্সে পেয়ে নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।

বিরতির আগে ব্যবধান আরো বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন আদেয়েমি। পেনাল্টি থেকে অবশ্য গোল করতে পারেননি ইয়ামাল। তার নিচু শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন রেসিংয়ের গোলরক্ষক।

প্রথমার্ধের শেষদিকে বাইরে চলে যাওয়া বল ধরতে গিয়ে কিছুটা পিছলে যান বার্সেলোনার গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া। পায়ে সমস্যা অনুভব করায় বিরতির পর তাকে তুলে নেয়া হয়। তার জায়গায় নামেন ভয়চেখ স্তানিশনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের খুব কাছে চলে যান ইয়ামাল। তার শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৬৫তম মিনিটে বার্সেলোনার ভুলে দ্বিতীয় গোল পায় রেসিং। ব্যবধান কমান ইয়াসির জাবিরি।

তবে দুই মিনিট পরই ফের তিন গোলের ব্যবধান তৈরি করে বার্সেলোনা। আদেয়েমি ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। স্পট কিক থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন রাফিনিয়া। লতি লা লিগায় এটি রাফিনিয়ার নবম গোল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১১।

হ্যাটট্রিক পূরণের পরই রাফিনিয়াকে তুলে নেন ফ্লিক। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন গাব্রিয়েল জেসুস। মাঠে নামার ১০ মিনিটের মাঝেই লা লিগায় বার্সেলোনার হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ইয়ামালের থ্রু পাস ডি-বক্সে পেয়েই প্রথম ছোঁয়ায় বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।

শেষ পর্যন্ত ৮৯তম মিনিটে এসে গোলের দেখা পান ইয়ামাল। মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত দৌড়ে দুই প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢোকেন আদেয়েমি। তার কাটব্যাক থেকে জোরাল শটে দলের সপ্তম গোলটি করেন ইয়ামাল।

লা লিগায় টানা চতুর্থ এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পঞ্চম ম্যাচে গোল পেলেন ইয়ামাল। চলতি লিগে তার গোলসংখ্যা সাতটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচে করেছেন আট গোল।