
ক্রীড়া ডেস্ক
জাতীয় দলের হয়ে অবসরের ঘোষণা আগেই দিয়েছেন লিওনেল মেসি। অবসরের সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপ চলাকালেই নেয়া। দেশের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচটি খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে। তবে এবার আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো দেশের মাটিতে নামতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা। ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন এই কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড সর্বকালের অন্যতম সেরা এ ফুটবলার। ম্যাচটি হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের হয়ে মেসির বিদায়ী আয়োজন।
আর্জেন্টিার রাজধানীর রিভার প্লেটের এস্তাদিও মনুমেন্তালে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। প্রায় ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামেই মেসিকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। মেসিকে বিদায় জানাতে কোনো কার্পণ্য করতে রাজি নয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া জানিয়েছেন, দেশের জাতীয় দলের প্রতীক ও অধিনায়ক মেসিকে তার প্রাপ্য বিদায় দেয়ার লক্ষ্যেই এই ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি ঘিরে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সদস্যদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাপিয়া। ফলে মেসির বিদায়ী ম্যাচটি বিশেষ এক আবহ তৈরি করতে পারে। মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ২০৭টি ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করেছেন। বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামলে জাতীয় দলের হয়ে তার ম্যাচ সংখ্যা দাঁড়াবে ২০৮-এ। সেটিই হতে পারে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ উপস্থিতি।
দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রায় সব ধরনের অর্জনই রয়েছে এ জাদুকরের। মেসি আর্জেন্টিনাকে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের হয়ে দীর্ঘ ও সফল অধ্যায়ের পর গত আগস্টে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানান মেসি।
বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবল চালিয়ে যাওয়া ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তিনি। জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে নিজের জন্য গভীরভাবে কষ্টের বলে উল্লেখ করে মেসি বলেছিলেন, এটাই সঠিক সময় এবং তিনি নিজের সর্বস্ব দিয়ে দিয়েছেন। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে এবং ৩ অক্টোবর বুয়ের্ন্স আয়ার্ন্সে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর এ দু’টি ম্যাচই হবে আর্জেন্টিনার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
বিশ্বকাপ চলাকালে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের ওপর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। লিয়ান্দ্রো পারেদেস ১০ ম্যাচ, নাহুয়েল মোলিনা ৭ ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদা এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোতে এসব নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও কার্যকর হবে। জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও ইন্টার মিয়ামির হয়ে প্রতিযোগিতা মূলক খেলা চালিয়ে যাবেন মেসি। ২০২৮ পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে ক্লাবটির সাথে।







