
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রথমবারের মতো আসিয়ান কাপে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। তবে আসরের কোনো প্রতিপক্ষই লাল-সবুজদের অচেনা নয়। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সর্বশেষ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বেও খেলেছিল বাংলাদেশ। আর ২০২২ সালে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। এদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষেই ড্র করার কৃতিত্ব আছে সর্বশেষ ম্যাচে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে দুই ম্যাচেই ন্যূনতম ব্যবধানে হার। মালয়েশিয়া যদিও শেষ দেখায় বাংলাদেশকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল। এরপরও এই আসিয়ান কাপে বাংলাদেশকে আন্ডারডগ হিসেবে দেখছেন কোচ টমাস ডুলি। যুক্তি হিসেবে দেখান প্রতিপক্ষদের র্যাংকিং। এই পিছিয়ে থাকা নিয়েই ইন্দোনেশিয়া যাবে বাংলাদেশ দল। ২৫ সেপ্টেম্বর জাকার্তায় মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জামাল ভুঁইয়া- হামজা চৌধুরীদের। তবে বাংলাদেশ দল ভুগছে চোট আর নাম্বার নাইন সমস্যায়। ইতোমধ্যেই ইনজুরির জন্য বাদ পড়েছেন ডিফেন্ডার বিশ^নাথ ঘোষ। ফিট হওয়ার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে জামাল ভুঁইয়া, তপু বর্মন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে। গতকাল কিংস এরিনায় অনুশীলনের সময় বাংলাদেশ দলের এই সমস্যার কথা জানান কোচ ডুলি।
জুনে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল সানমেরিনোর বিপক্ষে। টমাস ডুলির প্রথম সেই অ্যাসাইনমেন্টে ইউরোপ জয় করে আসে লাল-সবুজরা। সেই ফিফা প্রীতিম্যাচে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারিয়েছিল সানমেরিনোকে। তবে সেই ম্যাচের পর জাতীয় দলের ফুটবলাররা বসাই ছিলেন। শুধু বাংলাদেশ পুলিশ এবং ফর্টিস এফসি এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের জন্য প্র্যাকটিস করেছিল। অন্য ফুটবলাররা যে অনুশীলন করে মাঠে ফিরবেন সেটাই হয়নি বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ক্লাবগুলোর অতি বিলম্বে অনুশীলন শুরু করায়। মোহামেডান এখনো অনুশীলন শুরু করেনি। ব্রাদার্স ইউনিয়ন গতকাল ১৮ জন নিয়ে শুরু করেছে প্র্যাকটিস। অথচ ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। এই খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে লিগ শুরু করাটাকে খুবই বিপজ্জনক বললেন কোচ ডুলি। এতে ফুটবলারদের ইনজুরিতে পড়ার প্রবল আশঙ্কা।
জাতীয় দলও এখন ইনজুরিতে ভোগছে। সাথে জ¦রে আক্রান্ত দুই ফুটবলার। কোচ ডুলির মতে, সানমেরিনোর বিপক্ষে ম্যাচের পর ফুটবলাররা তেমনি কিছুই করেনি। কিছু ফুটবলার ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করেছে। এটা পর্যাপ্ত নয়। তবে বিদেশে লিগে খেলা ফুটবলাররা তাদের ক্লাবে অনুশীলন করে ফিট আছে। আমি এখন অন্য ফুটবলারদের ফিট করে তোলার চেষ্টা করছি।’ এর মধ্যে ইনজুরিতে ভুগছেন জামাল ভুঁইয়া, তপু বর্মন ও ফাহিম। যদিও এদের নিয়েই ইন্দোনেশিয়া যাবেন ডুলি। জ¦রে আক্রান্ত আরো দু’জন।
আসরে বাংলাদেশের লক্ষ্য মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরকে হারানো। এরপর চার দেশের মধ্যে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়ার সাথে লড়াই করা। তবে জিততে হলে গোল করতে হবে। কিন্তু সেই গোল কে করবেন। বাংলাদেশ দলেতো নেই কার্যকরী নাম্বার নাইন বা মূল স্ট্রাইকার। তার ওপর বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ হাভিয়ার কাবরেরা জাতীয় দল থেকে মূল স্ট্রাইকারদের রাস্তাটা বন্ধই করে দিয়েছেন। দেশী স্ট্রাইকার না থাকার পেছনে কোচ ডুলি দায় দিলেন ঘরোয়া লিগের ক্লাবগুলোকে। কারণ সব ক্লাবই স্ট্রাইকার পজিশনে বিদেশীদের খেলাচ্ছেন। এরপরও মাঠেতো নামতে হবে স্ট্রাইকার নিয়ে। কোচ তাই রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার ইমন এবং শেখ মোরসালিনদের মধ্য থেকে যে কোনো একজনকে নাম্বার নাইন হিসেবে খেলানোর চেষ্টা করবেন। উল্লেখ্য তিনজনই মিডফিল্ডার। কাবরেরা অবশ্য রাকিবকে দিয়ে স্ট্রাইকারের কাজটি করাতেন।
জাতীয় দলের ক্যাম্পে প্রবাসী উঠতি বেশ কিছু ফুটবলার আছেন। কোচের মতে, ‘এদের আরো সময় দরকার।’ তবে ৬ ফুটের উপরে লম্বার প্রবাসী গোলরক্ষক সাইফ দলের সাথে ইন্দোনেশিয়া যাবেন এমন ইঙ্গিত ছিল কোচের মুখে। জানান, সাইফের উচ্চতাটা আদর্শ। বাতাসে ভাসা বল আয়ত্তে নেয়ার জন্য যথাযথ উচ্চতা। তবে তার আরো শেখার আছে।
বাংলাদেশ দল হামজা চৌধুরীদের ছাড়াই ইন্দোনেশিয়া রওয়ানা হবে। হামজা ও শমিত শোম পরে দলের সাথে যোগ দেবেন। তাদের সাথে ইন্দোনেশিয়া যাবেন ফারহান আলী ওয়াহিদ। তিনি ইংল্যান্ডের একটি ক্লাবের অ্যাকাডেমির ফুটবলার।
কোচ জানান, আমরা এই আসরে যাচ্ছি নভেম্বরের সাফ ফুটবলের প্রস্তুতি হিসেবে। আসিয়ান কাপে যে ভুলগুলো করবে তা যেন সাফে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র্রে বাস করা জার্মান বংশোদ্ভূত এই কোচের মতে, আমরা হারাতে চাই সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াকে। এরপর ইন্দোনেশিয়া আমাদের বিপক্ষে চাপে থাকবে। আমরা যেমন ভুটানের কাছে হারতে চাইবো না ইন্দোনেশিয়াও চাইবে না আমাদের কাছে হারতে। আমরা লড়াই করতে চাই র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়ার সাথে।







