৫২ নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ : শেষ হয়নি একটিও
৫২ নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ : শেষ হয়নি একটিও। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫২টি নতুন গ্যাস কূপখননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সরকারের বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় ১০৪টি নতুন কূপখনন এবং পুরনো ৪৬টি কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর চাপ কমার পাশাপাশি শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।

Advertisement

তবে বড় এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে এরইমধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, দ্বিতীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি— বাপেক্সের দায়িত্বে থাকা ৫২টি নতুন কূপের একটির খননকাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কূপখনন এবং সেখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে কি না— তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নতুন কূপখননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেশের গ্যাস সঙ্কটের সমাধান হবে না। এর জন্য অনুসন্ধান, আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের মূল্যায়ন, উন্নয়ন কূপখনন, পুরনো কূপ সংস্কার এবং গ্যাস সঞ্চালন অবকাঠামোর উন্নয়নকে একই কর্মপরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি বাপেক্সের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

Advertisement

আমদানিনির্ভরতায় বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

দেশের বর্তমান গ্যাস সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় দুই হাজার ৭১৬ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। বিপরীতে দৈনিক চাহিদা প্রায় তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে প্রায় এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

সরবরাহের উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসছে দৈনিক প্রায় এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৪১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো সরবরাহ করছে ৮৯০ মিলিয়ন ঘনফুট বা প্রায় ৩৩ শতাংশ। আর দেশীয় সরকারি কোম্পানিগুলোর উৎপাদন প্রায় ৭২৬ মিলিয়ন ঘনফুট— যা মোট সরবরাহের প্রায় ২৬ শতাংশ।

এই চিত্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট করে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পাশাপাশি সরকারের ভর্তুকির চাপও বেড়ে যায়। বিশেষ করে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি রয়েছে। এর সাথে পরিবহন, টার্মিনালে পুনর্গ্যাসীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর ব্যয় যুক্ত হওয়ায় আমদানিকৃত গ্যাসের প্রকৃত ব্যয় আরো বাড়ে।

অন্য দিকে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো গেলে দীর্ঘ মেয়াদে আমদানির ওপর চাপ কমানোর সুযোগ রয়েছে। যদিও নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন, তবু সফল অনুসন্ধানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক মজুদ আবিষ্কার করা গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দিতে পারে।

গ্যাস সঙ্কটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদনশীল শিল্পে। তৈরী পোশাক, বস্ত্র, সার, সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছে না। কোথাও নিম্নচাপ, কোথাও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে অনেক কারখানা তাদের উৎপাদনক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগাতে পারছে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমছে এবং রফতানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

১৫০ কূপের কর্মসূচি, বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ২ সেপ্টেম্বর সংসদে দেয়া তথ্যানুযায়ী, সরকারের বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় ১০৪টি নতুন গ্যাস কূপখনন এবং ৪৬টি পুরনো কূপ ওয়ার্কওভার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর দ্বিতীয় পর্যায়ে বাপেক্সের দায়িত্বে রয়েছে ৫২টি নতুন কূপখনন এবং ১৬টি কূপ ওয়ার্কওভার।

কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ের বাস্তবায়নকাল ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫২টি নতুন কূপের কোনোটির খননকাজ এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এতগুলো কূপখনন করতে হলে অর্থায়ন, খননযন্ত্র, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি দরপত্র, ক্রয়প্রক্রিয়া ও প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এড়ানো জরুরি।

এ ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন কূপখনন করলেই যে প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে, তার নিশ্চয়তা নেই। কোনো কূপে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস পাওয়া যেতে পারে, আবার কোনো কূপে প্রত্যাশিত মজুদ না-ও মিলতে পারে। এমনকি গ্যাস আবিষ্কৃত হলেও তার পরিমাণ, চাপ, গুণগত মান ও উত্তোলন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা।

তাই কূপখননের সংখ্যা দিয়ে কর্মসূচির সাফল্য বিচার করা যথেষ্ট নয়। কতটি কূপে গ্যাস পাওয়া গেল, আবিষ্কৃত গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ কত, দৈনিক উৎপাদন কত বাড়ল এবং কত দ্রুত তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গেল— এসব সূচককে মূল্যায়নের কেন্দ্রে রাখতে হবে।

অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার একসাথে জরুরি

দেশের বিদ্যমান অনেক গ্যাসক্ষেত্র দীর্ঘ দিন ধরে উৎপাদনে রয়েছে। দীর্ঘ সময় গ্যাস উত্তোলনের ফলে এসব ক্ষেত্রের ভূগর্ভস্থ জলাধারের চাপ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে কূপগুলোর উৎপাদনক্ষমতার ওপর। কোনো কোনো কূপে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, আবার কোথাও প্রযুক্তিগত ও ভূতাত্ত্বিক কারণে উত্তোলন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কূপখননের পাশাপাশি তিন ধরনের কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, নতুন গ্যাসের মজুদ আবিষ্কারের জন্য অনুসন্ধান কূপখনন। দ্বিতীয়ত, আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের বিস্তৃতি, মজুদ ও উৎপাদন সম্ভাবনা নির্ধারণে মূল্যায়ন কূপখনন। তৃতীয়ত, বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য উন্নয়ন কূপখনন।
এ তিনটি কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে নতুন গ্যাস আবিষ্কারের পরও উৎপাদন শুরু করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। অনুসন্ধান থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের জন্য পৃথক প্রস্তুতি ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।

একই সাথে পুরনো ও উৎপাদনক্ষমতা হারানো কূপে ওয়ার্কওভার, সাইডট্র্যাক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসার স্থাপন করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন কূপখননের তুলনায় বিদ্যমান কূপের প্রযুক্তিগত সংস্কারের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। ফলে নতুন অনুসন্ধান ও পুরনো কূপের উৎপাদন পুনরুদ্ধার— দুই কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, দেশের স্থলভাগে অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বড় একটি দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত খননযন্ত্র, দক্ষ জনবল এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতার অভাব থাকলে বড় কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

খনন ও অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বাপেক্সের আধুনিক খননযন্ত্রের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দিকনির্দেশিত খননপ্রযুক্তি, ভূগর্ভস্থ তথ্য সংগ্রহ, কূপ পরীক্ষা এবং জলাধার প্রকৌশলে দক্ষতা অর্জন জরুরি। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

একই সাথে দেশের অব্যবহৃত ও কম অনুসন্ধানকৃত এলাকায় দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ জোরদার করতে হবে। এসব জরিপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ গঠন ও সম্ভাব্য গ্যাসের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে অনুসন্ধান কূপখননের স্থান নির্বাচন করলে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো এবং সফলতার সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব।

দেশের স্থলভাগের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরেও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। গভীর ও অগভীর সমুদ্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোম্পানিকে যুক্ত করা, বিনিয়োগবান্ধব চুক্তিকাঠামো তৈরি এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি। সমুদ্রের সম্ভাবনাময় ব্লকগুলো দীর্ঘ দিন অনাবিষ্কৃত বা অনুন্নত অবস্থায় থাকলে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্যাস আবিষ্কার হলেই সরবরাহ নিশ্চিত হবে না

নতুন গ্যাস আবিষ্কার দেশের জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও আবিষ্কার থেকে ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহ পর্যন্ত রয়েছে একাধিক ধাপ। নতুন কূপে গ্যাস পাওয়া গেলে তা উত্তোলনের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় উৎপাদনব্যবস্থা, প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং জাতীয় গ্রিডে সংযোগের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে। কোথাও গ্যাসের চাপ কম হলে কম্প্রেসার স্থাপনেরও প্রয়োজন হতে পারে।

এসব অবকাঠামো প্রস্তুত না থাকলে আবিষ্কৃত গ্যাস দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে না। ফলে গ্যাস অনুসন্ধান ও খনন প্রকল্পের সাথে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করতে হবে।

এ ছাড়া নতুন গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও তার সুফল শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ গ্রাহকের কাছে কিভাবে পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে সরকারের বণ্টননীতির ওপর। সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গ্রাহকের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণে অর্থনৈতিক ও উৎপাদনশীলতার বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে রফতানিমুখী ও উৎপাদনশীল শিল্পে নির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিদ্যুৎ খাতেও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি পেলে তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে জ্বালানির অভাবে অনেক কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ফলে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো গেলে এই চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়নেই গুরুত্ব দিতে হবে

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সময়োপযোগী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে এ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি, বিনিয়োগের দক্ষতা, কারিগরি সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ওপর।

এ জন্য প্রতিটি কূপের খননসূচি, সম্ভাব্য ব্যয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা, ব্যয় বৃদ্ধি ও দরপত্রে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা রোধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

কোনো কূপে প্রত্যাশিত গ্যাস না পাওয়া গেলে তার কারণ অনুসন্ধান এবং পরবর্তী কূপের পরিকল্পনায় সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোও জরুরি। একই সাথে নতুন কূপখননের পাশাপাশি পুরনো কূপ থেকে উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং সমুদ্রাঞ্চলে অনুসন্ধান কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে পারলে এলএনজি আমদানির চাপ কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ৫২টি নতুন কূপখননের ঘোষণা বা লক্ষ্যমাত্রাই চূড়ান্ত সাফল্য নয়। প্রকৃত সাফল্যনির্ভর করবে কতটি কূপে বাণিজ্যিক গ্যাস পাওয়া গেল, উৎপাদন কতটা বাড়ল এবং সেই গ্যাস কত দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গেল তার ওপর।

জ্বালানি সঙ্কটের বর্তমান বাস্তবতায় তাই শুধু নতুন কূপখননের পরিকল্পনা নয়, প্রয়োজন অনুসন্ধান থেকে উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যন্ত একটি সময়াবদ্ধ, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক কর্মপরিকল্পনা। অন্যথায় বড় বিনিয়োগ ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা সত্ত্বেও গ্যাস সঙ্কটের কাঙ্ক্ষিত সমাধান অধরাই থেকে যেতে পারে।