ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদল
ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদল সংগৃহীত ছবি

জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদেরকে ভিসা না দেয়ার সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। 

যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ প্রতিনিধিদলে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসও রয়েছেন। 

আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইইউ-এর কূটনৈতিক বিভাগের মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি বলেন, ‘টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রবেশ ভিসা না দেয়ার সিদ্ধান্তে আমরা দুঃখিত।’

তিনি আরো বলেন, জাতিসঙ্ঘের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সদর দফতর-সংক্রান্ত চুক্তি ও আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

গত বছরও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলকে ভিসা দেয়নি। এর ফলে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের নিয়মিত বক্তা মাহমুদ আব্বাসকে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে বক্তব্য দিতে হয়েছিল।

এ বছরও আব্বাসকে ভার্চুয়ালি সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়ার পক্ষে বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে ১৫২-৩ ভোট পড়ে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি মিশনের সদস্যরাই কেবল আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি অংশ নিতে পারবেন।

জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের কারণে ‘জাতিসঙ্ঘের কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সক্ষমতা’ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি উদ্বিগ্ন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) দীর্ঘদিনের একটি নীতির বিরোধিতা করে আসছে। ওই ব্যবস্থার আওতায় কারাগারে থাকা বা নিহত ফিলিস্তিনিদের পরিবারের জন্য অর্থ প্রদান করা হতো। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযোগ, হামলা চালানো ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও এই অর্থ পেতেন।

সম্প্রতি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ওই ব্যবস্থা সংস্কার করেছে। নতুন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক পরিচয় বা কারাগারে থাকার বিষয়টির পরিবর্তে পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে কল্যাণমূলক সহায়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, তারা ফিলিস্তিনিদের এমন কিছু পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করে, যার মাধ্যমে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে পদক্ষেপ নেয়া এবং আলোচনার বাইরে গিয়ে একতরফাভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা রয়েছে বলে ওয়াশিংটন উল্লেখ করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এখনো ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা প্রদান’ এবং সরকারি বক্তব্য ও স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ‘সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মহিমা প্রচার’ করে চলেছে।

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রশ্নেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জাতিসঙ্ঘের বেশিভাগ সদস্যরাষ্ট্রের মতপার্থক্য রয়েছে। গত বছর জাতিসঙ্ঘে ১৪২টি সদস্যরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

মাহমুদ আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ ভিসা না দেয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র : বাসস