ঢাবি শিক্ষার্থীদের সেবা আধুনিক করতে প্রশাসনের ৬ উদ্যোগ
ঢাবি শিক্ষার্থীদের সেবা আধুনিক করতে প্রশাসনের ৬ উদ্যোগ। ছবি: আরটিএনএন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সেবা কার্যক্রম আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগগুলো হলো: বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সব ধরনের নোট ও নথি ৩ কার্যদিবসের (৭২ ঘণ্টা) মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নির্দেশনায় এ বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

প্রশাসনিক ভবন থেকে প্রাপ্ত সেবার বিষয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য উপাচার্য কার্যালয়ের প্রবেশপথ ও রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে দুটি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি registrar.building.complaint@du.ac.bd
 ইমেইলের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানো যাবে। শিগগিরই অনলাইনে অভিযোগ জানানোর জন্য গুগল ফর্ম চালু করা হবে।

কর্মকর্তাদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অটোমেটেড প্রবেশ পদ্ধতি চালুর কাজ চলছে। সেবা গ্রহীতাদের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেস্কে নোটিশ পদ্ধতিও চালু করা হয়েছে। অফিস প্রধানরা নিজ নিজ দপ্তরের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম বর্ষ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও অন্যান্য ফি অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে অথবা বিভাগ, ইনস্টিটিউট বা হল অফিসে ফি জমা দিতে পারছেন। এতে ব্যাংকে লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি কমেছে। অনলাইন ভর্তি ওয়েবসাইটে ফি সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া তথ্যকেন্দ্রে দুইজন শিক্ষার্থীকে তথ্যসেবা প্রদানে যুক্ত করা হয়েছে।

আইসিটি দক্ষতা বাড়াতে ২১ এপ্রিল থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে সপ্তাহে দুই দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, মোট সময় ৩৬ ঘণ্টা। পর্যায়ক্রমে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

মার্কশিট, সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলনসহ সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম অনলাইনে আনা হয়েছে। নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন, পেমেন্ট ও ডকুমেন্ট ট্র্যাকিং সুবিধা চালু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে আবেদন, ফি প্রদান ও আবেদন ট্র্যাক করতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের সেবা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আসবে।