
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আরেকটি রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম-নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র দায়ে।
দণ্ডিত পাঁচ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিতরণ করা হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে।
চব্বিশের গণহত্যা মামলায় এটি ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়। দুই ট্রাইব্যুনাল মিলে এই সাত রায়ে মোট ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। দণ্ড পাওয়া শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৮ আসামি পলাতক। সরকারের দায়িত্ব পলাতক আসামিদের দেশে এনে সাজা কার্যকর করা। দেশে এনে আসামিদের সাজা কার্যকরে সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। এটি জুলাইয়ে হতাহত পরিবারকে পীড়িত করে।
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সবচেয়ে নৃশংস ও বর্বর হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। সে সময় আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘এরা হচ্ছে আত্মস্বীকৃত রাজাকার, যারা নিজেদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতার প্রকাশ ঘটিয়েছে; তার জবাব দেয়ার জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট।’ তিনি আরো বলেছিলেন, ‘ছাত্রদের বিষয় ক্যাম্পাসের মধ্যেই সীমিত থাকবে। আমরা দেখি, রাজনৈতিকভাবে কারা প্রকাশ্যে আসে, তখন দেখা যাবে। আমরাও মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।’ তিনি ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামকে বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন; মারো।’
যার ফলে মাত্র ৩৬ দিনের ব্যবধানে ১৪ শতাধিক ছাত্র-জনতা হত্যাকাণ্ডের শিকার ও ২৫ সহস্রাধিক আহত হতে হয়েছে। নিহতদের মধ্যে যেমন নারী ও শিশুও ছিল, তেমনি আহতদের মধ্যে অনেকে পা, চোখ ও হাত হারিয়ে চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল আওয়ামী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। গণমানুষের সেই ক্ষোভ দমনে পেশিশক্তি ব্যবহারের ন্যক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ। এই বিচারের রায় কার্যকর করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক সহজীকরণের স্বার্থে ভারতে পলাতক এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য সব আসামিকে ফেরত দিতে হবে। এই বক্তব্য সময়োচিত এবং যথাযথ।
জুলাই হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত কোন আসামি কোন দেশে পালিয়েছে সে বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট তথ্য থাকা দরকার। সেই সাথে এসব আসামিকে ফেরত আনতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে।
দেশের মানুষ ছাত্র-জনতার হত্যাকারীদের সাজা কার্যকর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।







