পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, শামা ওবায়েদ, স্পেন, যুক্তরাজ্য
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ইন্টারনেট

স্পেন ও যুক্তরাজ্য সফরকে ফলপ্রসূ হিসেবে অভিহিত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু সহযোগিতা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কূটনীতি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

Advertisement

সোমবার বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্পেন ও যুক্তরাজ্যে সদ্যসমাপ্ত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্পেন সফরে শামা ওবায়েদ স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে অংশ নেন। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রফতানি গন্তব্য হয়ে উঠেছে স্পেন। ফলে দু’দেশের বাণিজ্য আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

প্রদর্শনীতে তৈরি পোশাক, পাট ও রাসায়নিকসহ বিভিন্ন শিল্পখাতের ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। এতে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগ ও শিল্প সহযোগিতার আগ্রহও উঠে আসে।

শামা জানান, তিনি বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের প্রচার করেছেন এবং স্পেনের সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এ ছাড়া স্পেনের পররাষ্ট্র সচিব দিয়েগো মার্তিনেজ বেলিওর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। এ সময় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রফতানি বহুমুখীকরণ এবং নতুন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরো জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে স্পেন।

যুক্তরাজ্য সফরে শামা ব্রিটিশ সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির সাথেও আলোচনা করেন। এতে জলবায়ু সহনশীলতা, অভিযোজন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং কপ৩১-এর আগে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরালো করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তিনি বলেন, জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জাতিসঙ্ঘের জলবায়ু সম্মেলনের সময় ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সম্ভাবনাও দুই পক্ষ খতিয়ে দেখেছে।

যুক্তরাজ্য সফরকালে শামা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরে বাংলাদেশী শিল্পী সোমা সুরভী জান্নাতের শিল্পকর্মের একটি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, শিক্ষা বিষয়ক বিনিময়, বৃত্তি এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘর ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে জোরদারের পাশপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু কূটনীতি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সূত্র : বাসস