ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। সংগৃহীত

কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন কোনো দেশের জন্য অন্যদের বিরোধিতা করার বিষয় নয়; বরং নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনায় স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহযোগিতা জোরদার করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে।

Advertisement

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ বক্তব্যকালে তিনি বলেন, ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অন্যদের বিরোধিতা করার কোনো বিষয় নয়। এটি শুধু নিশ্চিত করা যে আমরা যেন স্বায়ত্তশাসিতভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’

সেরে-শার্লে বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশ নিরাপত্তা, জলবায়ু ও অর্থনৈতিকসহ নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলো নিজেদের মতামত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও দেশগুলোর জন্য স্বাধীনভাবে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা ধরে রাখা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ধারণাটি দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রান্সের নীতির অংশ এবং ধীরে ধীরে ইউরোপের কৌশলগত চিন্তাধারাতেও এটি স্থান করে নিচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটি কারো বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। এর লক্ষ্য হলো আমরা যেন নিজেদের সিদ্ধান্ত স্বায়ত্তশাসিতভাবে নেয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী থাকি।’

তিনি বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের অর্থ বিচ্ছিন্নতা বা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়।

‘স্বায়ত্তশাসিত হওয়ার অর্থ একা থাকা এবং বিশ্বের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা নয়,’ বলেন তিনি।

বরং এর অর্থ হলো, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এবং অংশীদারদের সাথে আলোচনায় যুক্ত থেকে একটি দেশ তার নিজস্ব অগ্রাধিকার অনুযায়ী কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেবে।

সেরে-শার্লে বলেন, ইউরোপ নিজেকে একটি ‘পার্টনারিং পাওয়ার’ বা অংশীদারিত্বভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে অন্যদের ওপর নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রবণতা অনুসরণের চেয়ে অংশীদারিত্ব অনেক ভালো এবং সংঘাতের চেয়ে সহযোগিতা ভালো।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তন মধ্যম শক্তির দেশগুলোর জন্য নিজেদের সক্ষমতা, মূল্যবোধ ও স্বার্থ নতুন করে মূল্যায়ন এবং গঠনমূলক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শীতল যুদ্ধের সময়ও ফ্রান্স সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিল, কিন্তু মস্কোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়নি। এর মাধ্যমে তিনি বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা মানেই তার ওপর নির্ভরশীলতা বা তার সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া নয়।

সেরে-শার্লে বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিবেশ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বড় শক্তিগুলো এবং তাদের ঐতিহ্যগত অংশীদারদের মধ্যেও ক্রমবর্ধমানভাবে উত্তেজনা ও মতপার্থক্য দেখা দিচ্ছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা, মূল্যবোধ এবং কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, তা আরো সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বড় বৈশ্বিক সঙ্কট এবং উদীয়মান ভূরাজনৈতিক চাপ কোনো দেশ এককভাবে মোকাবেলা করতে পারে না। বাসস