বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট, সিলেট টেস্ট, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, মুশফিকুর রহিম, তাওহিদ হৃদয়, হাসান মাহমুদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল, বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট
তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। সংগৃহীত

দ্বিতীয় দিনে কিছুটা লড়াইয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। তবে সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে স্বাগতিকদের। সেক্ষেত্রে বড় জুটি গড়ার বিকল্প নেই।

Advertisement

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকেরা।

দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে ১০৪ বলে ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। হৃদয় ৮০ বলে ২৯ এবং মুশফিক ৫৬ বলে ১৯ রানে অপরাজিত আছেন। তৃতীয় দিন এই জুটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা।

Advertisement

দিন শেষে হাসান মাহমুদও মুশফিক-হৃদয়ের জুটি নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখন যে জুটিটা হয়েছে মুশফিক ভাই ও হৃদয়ের, যদি এটা ধরে রাখতে পারে, তাহলে আমরা লিড নিতে পারব। আশা করি, ওদের রান টপকে যেতে পারবো।’

তবে শুধু এই জুটির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সাদমান ইসলামের চোটে ওপেনিংয়ে নেমে নাঈম হাসান করেছেন মাত্র ৫ রান। টেস্টে এই প্রথম ওপেন করতে নেমেছিলেন তিনি। তানজিদ হাসান ১৬ ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৮ রান করে ফিরেছেন।

ফলে মুশফিক-হৃদয়ের পর লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটের দিকেও তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। নিচের সারির ব্যাটসম্যানদেরও অবদান রাখতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাবও আছে। পাঁচ দিনের টেস্টে ২০০ বা এর বেশি রানে পিছিয়ে থাকলে প্রতিপক্ষ ফলোঅন করানোর সুযোগ পায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে বাংলাদেশকে অন্তত ১৫৭ রান করতে হবে, যাতে ফলোঅন এড়ানো যায়।

অর্থাৎ হাতে থাকা সাত উইকেট নিয়ে আরো ৬৯ রান তুলতে হবে স্বাগতিকদের। তবে বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু ফলোঅন এড়ানো নয়, যতটা সম্ভব রান করে প্রথম ইনিংসে লিড নেয়া।

উইকেট নিয়ে আশাবাদী হাসানও। তার মতে, নতুন বলে শুরুর এক-দুই ঘণ্টা কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও পরে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হয়ে এসেছে। স্পিন কিংবা পেস—কোনোটিতেই ব্যাটারদের জন্য খুব বেশি সমস্যা নেই। মনোযোগ ধরে রেখে খেলতে পারলে ভালোভাবে ইনিংস শেষ করা সম্ভব।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে থামাতে ৬ উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। তার সাথে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

এক সময় ২৬৪ রানে ৪ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ছয় ব্যাটসম্যান যোগ করেছেন ১২১ রান। আমির জাঙ্গুর ১৩৩, কেভিন উইকহামের ৬১ ও জাস্টিন গ্রিভসের ৫১ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহ পেয়েছে সফরকারীরা।

তাই তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের কাজটা পরিষ্কার—শুরুতে নতুন বল সামলে উইকেট বাঁচানো, মুশফিক-হৃদয়ের জুটি বড় করা এবং এরপর লিটন-মিরাজদের ব্যাটে রান পাওয়া।

দ্রুত উইকেট হারালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়বে; আর লম্বা জুটি গড়তে পারলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে।