সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করছেন তাওহীদ হৃদয়
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করছেন তাওহীদ হৃদয়। সংগৃহীত

হাসান মাহমুদের রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় দিন বেশিদূর যেতে দেয়নি বাংলাদেশ। তবে ব্যাট হাতে নিজেরাও নেই সাচ্ছন্দ্যে। মরার উপরে খারার গা, সাদমান ইসলামের চোট। পা মচকে যাওয়ায় ব্যাট করতে পারবেন না তিনি।

Advertisement

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে বাংলাদেশ শেষ করেছে দ্বিতীয় দিন। এখনো টাইগাররা পিছিয়ে আছে ২৬৮ রানে। তাওহীদ হৃদয় ২৯ ও মুশফিকুর রহিম ১৯ রানে ব্যাট করছেন। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ করে ৩৫৬ রান তুলে।

এদিন ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে খেলতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের দিন ১১১ রানে অপরাজিত থাকা আমির জাঙ্গু এদিনও বাংলাদেশের বোলারদের পরীক্ষা নিয়েছেন। জাস্টিন গ্রিভসের সাথে তার ১০৬ রানের জুটি ভাঙে হাসানের জোড়া আঘাতে।

Advertisement

২১২ বলে ১৩৩ রানে জাঙ্গুকে বোল্ড করার পর পরের বলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজকে (০) ফিরিয়ে দেন তিনি। চেজের বিদায়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান জশুয়া বিশপ।

এরপর লিটন দাসের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে বিশপকে (২৩) ফিরিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। পরে শামার জোসেফকে (১৬) বোল্ড করে ইনিংসে ছয় উইকেটের কীর্তিও গড়েন তিনি। সব মিলিয়ে ২৪ ওভারে ৯০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন এই পেসার।

এছাড়া কেভিন উইকহাম ৬১ ও গ্রিভস ৫১ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ নেন দু’টি করে উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১০৬.৪ ওভারে ৩৫৬ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এদিকে এই ছয় উইকেটের সুবাদে বাংলাদেশের টেস্ট পেসারদের মাঝে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেয়ার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন শাহাদাত হোসেনকে। পাঁচটি ভিন্ন দেশে পাঁচবার পাঁচ উইকেট নেয়ার বিরল কীর্তিও গড়েছেন তিনি।

কিন্তু বোলারদের সাফল্যের পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ফিল্ডিং করতে গিয়ে চোট পাওয়া সাদমানের অনুপস্থিতিতে ওপেনিংয়ে নামেন নাঈম হাসান। তবে ৫ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। তানজিদ হাসান তামিমও ফেরেন ১৬ রান করে।

এরপর চাপ সামলানোর দায়িত্ব পড়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অন্য ব্যাটসম্যানদের ওপর। কিন্তু অধিনায়ক পারেননি সেই দায়িত্ব সামলাতে। ৬৫ বলে ১৮ রান করে শেষ হয় তার ইনিংস। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় দল।

তবে দিনের শেষভাগে এসে আর বিপদ বাড়তে দেননি তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিক। দু’জনের ব্যাটে স্বস্তিতে দিন শেষ করলেও এখনো বড় ব্যবধানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। 
এদিকে সাদমান ইসলামের মাঠে ফেরা নিয়েও আছে শঙ্কা। পা মচকে সাদমান আর ব্যাট করতে না পারলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হবে। ফলে বাকি ইনিংসে কার্যত ১০ জন নিয়েই লড়তে হবে স্বাগতিকদের।