
অবিশ্বাস্যভাবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে জেতা হয়নি বাংলাদেশের, তবে হারেওনি। ইতিহাসে এই টেস্ট লেখা থাকবে ‘ড্র’ হিসেবে। কিন্তু ম্যাচের গল্পটা অন্যরকম—এই ড্র আফগানিস্তানের কাছে জয়ের সমান, আর বাংলাদেশের জন্য একরকম পরাজয়েরই আক্ষেপ।
তৃতীয় দিন শেষেই ম্যাচের নাটাই ছিল বাংলাদেশের হাতে। চতুর্থ দিন শেষে জয়ের অপেক্ষা আরো তীব্র হয়। শেষ দিনে আফগানিস্তানের দরকার ছিল ৩৪৭ রান, বাংলাদেশের দরকার ছিল ৭ উইকেট। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ড্র নিশ্চিত করে আফগানরা।
বাংলাদেশের আক্ষেপের বড় জায়গা হয়ে থাকবে হাতছাড়া সুযোগগুলো। দিনের শুরুতেই ৩৭ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে শর্ট লেগে সেদিকউল্লাহ আতালের ক্যাচ নিতে পারেননি তানজিদ তামিম। সেই জীবন কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে ওঠেন আতাল।
৬৬ রানে ব্যাট স্টাম্পে লাগতে লাগতেও বেঁচে যান তিনি। ৭০ রানে লিটন দাস স্টাম্পিংয়ের সুযোগও হাতছাড়া করেন। সুযোগ পেয়ে ২৭৭ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন আতাল। শেষ পর্যন্ত ৩৩২ বলে ১১১ রান করে যখন ফিরলেন, আফগানিস্তানের স্কোর ২৮১।
তখনও বাংলাদেশের জয়ের সুযোগ ছিল। আতালকে ফিরিয়ে দেয়ার পর হাতে ছিল আরো ২৩.২ ওভার। কিন্তু শেষ দুই উইকেট আর পাওয়া হয়নি। ১২২তম ওভারে পরপর দুই বলে রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। এরপর ১৩১তম ওভারে ডিপ মিডউইকেটে কাইস আহমেদের ক্যাচও ছাড়েন হাসান মাহমুদ।
শেষ পর্যন্ত কাইস আহমেদের ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস আর ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের সাথে ৪৫ রানের জুটি বাংলাদেশের শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেয়। ইয়ামিন ১৯ রান করে ফিরলেও কাইসকে আর থামাতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান নিয়ে ম্যাচ বাঁচায় আফগানিস্তান।
ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সারাদিন বোলিং করেও সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারাকেই বড় আক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তিনি।
শান্ত বলেন, ‘অবশ্যই হতাশাজনক। তবে আমার মনে হয়, আফগানিস্তান দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। আমরা সারাদিন কয়েকটি সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেগুলোকে উইকেটে পরিণত করতে পারিনি।’
এই ম্যাচে স্পিনারদের কাছ থেকেও আরো বেশি প্রত্যাশা ছিল শান্তর। আবুধাবির আবহাওয়া ও কন্ডিশন বিবেচনায় স্পিনাররা বড় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত সাফল্য না এলেও এটিকে দলের জন্য শিক্ষা হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক।
শান্ত বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমাদের পেসাররা অসাধারণ কাজ করছে। এখানকার আবহাওয়া ও কন্ডিশন বিবেচনায় এই ম্যাচে স্পিনারদের কাছ থেকে আমি সত্যিই ভালো কিছু আশা করেছিলাম। তারা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করেছে। তবে আগেই বলেছি, আফগানিস্তান অসাধারণ ব্যাটিং করেছে।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করার পর আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে ১০৬ রানের লিড নিয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দেয়।
এমন বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় আফগানিস্তান জিততে না পারলেও ১৪২ ওভার ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য যা হারের মতোই।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








