রেকর্ড গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল ভারত
রেকর্ড গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল ভারত। সংগৃহীত

এক ম্যাচে পাঁচ সেঞ্চুরি—ওয়ানডে ক্রিকেটে এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে সেই আক্ষেপ ঘোচাল এবার। বুধবার গুয়াহাটির বারসাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত–ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইতিহাস গড়েছেন দুই দলের পাঁচ ব্যাটার।

Advertisement

ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিনজনের সেঞ্চুরির পর ভারতের হয়েও সেঞ্চুরি পেয়েছেন দুইজন। তবে সব ছাপিয়ে গেছেন শুভমান গিল, খেলেছেন ২২৩ রানের ইনিংস। তাতে শেষ পর্যন্ত ৪০৬ রানের লক্ষ্য ৩৯ বল আর ৮ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে ভারত। 

এর আগে, কোনো ওয়ানডে ম্যাচে সর্বোচ্চ চারটি সেঞ্চুরি হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল ভারত–ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জন ক্যাম্পবেল ৬৪ বলে ১০১, শাই হোপ ৯৪ বলে ১০৪ ও আমির জাঙ্গু ৭৭ বলে ১১৪ রান করেন। 

তাদের তিন সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৪০৫ রান করে ক্যারিবীয়রা—যা ওয়ানডেতে তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। বল হাতে রবীন্দ্র জাদেযা ও কুলদীপ যাদব দু’টি করে উইকেট নেন।

৪০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল। উদ্বোধনী জুটিতে দু’জন মিলে যোগ করেন ২৫৫ রান। রোহিত ৭৫ বলে ১০১ রান করে ফিরলেও গিল থামেননি। ৬২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা ভারতীয় অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে ২২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। 

গিলের ২২৩ রানের ইনিংসে ছিল ২৪টি চার ও সাতটি ছক্কা। এটি ওয়ানডেতে তার দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। ফলে রোহিত শর্মার পর মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হলেন তিনি। একইসাথে ওয়ানডেতে সফল রান তাড়ায় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন গিল। 

শুধু তাই নয়, বলের হিসেবে তিনিই এখন ওয়ানডে ক্রিকেটের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। ১১৭ বলে এই কীর্তি গড়েন তিনি। এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০২২ সালে ইশান কিষাণ ১২৬ বলে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েন।

গড়েছেন আরো বেশ কয়েকটি রেকর্ড। টেস্ট ও ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করা পঞ্চম ক্রিকেটার এখন শুভমান গিল। এছাড়া অধিনায়ক হিসেবেও তিনিই এখন ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক। পেছনে ফেলেছেন বিরেন্দ্র শেবাগকে (২১৯)। সব মিলিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। 

গিলের বীরোচিত ইনিংসের পর ভারত ৪৩.৩ ওভারে ২ উইকেটে ৪০৬ রান করে ম্যাচ জেতে। গিলের সাথে রুতুরাজ গায়কোয়াড় ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজও ২–০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে ভারত। 

৪০৬ রান তাড়া করে জয়টি ভারতের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সফল রানচেজ। এর আগে ২০১৩ সালে জয়পুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৩৬২/১ করেছিল ভারত। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে ভারতের সফল রানচেজের সংখ্যা নতুন উচ্চতায় উঠল।

বিশ্ব ক্রিকেটেও ভারতের এই জয় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ৪০০ বা তার বেশি রানের লক্ষ্য সফলভাবে তাড়া করার ঘটনা ওয়ানডেতে মাত্র দ্বিতীয়বার। ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪/৪-এর জবাবে ৪৩৮/৯ করে দক্ষিণ আফ্রিকা যে রেকর্ড গড়েছিল, তার পর এবার ভারত ৪০৬/২ করে এই তালিকায় জায়গা করে নিলো। ফলে এটি ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রানচেজ।

ম্যাচে দুই দলের মোট রান হয়েছে ৮১১। এর আগে ওয়ানডেতে এক ম্যাচে ৮০০ বা তার বেশি রান হয়েছিল তিনবার—২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়া–দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে ৮৭২, ২০০৯ সালে ভারত–শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ৮২৫ এবং ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড–ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে ৮০৭। গুয়াহাটির ম্যাচটি তাই এই তালিকায় চতুর্থ।

ভারতের জন্য আরেকটি রেকর্ডও এসেছে এই ম্যাচে। ৪০৬/২ করে ওয়ানডেতে নবমবার ৪০০ বা তার বেশি রান করেছে তারা। এর আগে ভারতের আটটি ৪০০+ স্কোর ছিল ৪১৮, ৪১৪, ৪১৩, ৪১০, ৪০৯, ৪০৪, ৪০২ ও ৪০১।

সব মিলিয়ে এই একটা ম্যাচে যেন বসেছিল রেকর্ডের মেলা।