
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে উত্তর কোরিয়ার সাথে সংলাপ চান, তা স্পষ্ট। একই সাথে তিনি নিশ্চিত করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য কোনো সেনা পাঠাবে না সিউল।
পাকিস্তানের পুরোনো ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন (১৮ সেপ্টেম্বর) জানায়, লি শুক্রবার বলেছেন, ‘ট্রাম্প সংলাপ চান এবং আমিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সংলাপে বসার আহ্বান জানাচ্ছি।’ উত্তর কোরিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপ আয়োজনের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ‘প্রাথমিক সমন্বয়ের চেষ্টা’ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে ট্রাম্প দাবি করেন, সেটি আবারো জোরদার করতে চাইছেন তিনি। গত মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে কিমের সাথে তার বৈঠক হতে পারে। কিমের সাথে ‘ভালোভাবে চলা’ গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সময় ট্রাম্প দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার হাতে এখন ৫৭টি ‘খুব শক্তিশালী’ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। তবে সিউলের হিসাবে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ৮০ থেকে ১২০টি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পাওয়া উত্তর কোরিয়া অবশ্য ট্রাম্পের এসব আগ্রহের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
লি বলেন, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৈঠক আয়োজন করা ‘কঠিন’, তবে ‘অসম্ভব নয়’। তিনি বলেন, ‘এটি কতটা সম্ভব, তা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না। তবে এটাও স্পষ্ট যে, এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে আমাদের সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করতে হবে।’
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে তাদের বার্ষিক উলচি ফ্রিডম শিল্ড সামরিক মহড়ার সংক্ষিপ্ত সংস্করণ আয়োজন করে। ট্রাম্পের নির্দেশেই মহড়ার পরিসর কমানো হয়েছিল। মহড়া সংক্ষিপ্ত করা এবং উত্তর কোরিয়ার প্রতি ট্রাম্পের সংলাপের আগ্রহের কারণে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনায় সিউল হয়তো গুরুত্ব হারাতে পারে।
এদিকে গত বছর ট্রাম্পের শুল্কের সবচেয়ে কঠিন প্রভাব এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা এক চুক্তির আওতায় সিউল ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট প্রকল্প ও চূড়ান্ত শর্ত নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। লি শুক্রবার বলেন, আলোচনা ‘খুবই জটিল ও কঠিন’ হয়েছে। দুই পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হলেও কিছু শর্ত তার কাছে ‘মেনে নেয়া কঠিন’ মনে হয়েছে। তাই আলোচনা এখনো চলছে।
‘না, ধন্যবাদ’
ইরানের যুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সেনা পাঠাবে না বলেও স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন লি।
তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধে কোনো সম্পৃক্ততা বা হস্তক্ষেপ হবে না। আমরা এ ধরনের কোনো সেনা বা সামরিক সরঞ্জাম পাঠাব না।’
কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতি নিয়ে খবর প্রকাশের পর লির এই বক্তব্য এলো। তিনি জানান, নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল পরিবহনের পথ সুরক্ষিত রাখতে দক্ষিণ কোরিয়া ‘ন্যূনতম যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু কার্যক্রম’ চালাবে।
লি জোর দিয়ে বলেন, সামরিক হস্তক্ষেপের দিকে নিয়ে যেতে পারে—এমন কোনো উপায়ে দক্ষিণ কোরিয়া সেনা মোতায়েন করবে না। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা এই যুদ্ধে সম্পৃক্ত না হওয়া ও হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে চলেছি। ভবিষ্যতেও আমরা এই নীতি মেনে চলব।’
গত মাসের শেষ দিকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে ওয়াশিংটন ‘খুব সামান্য সহায়তা’ পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা মিত্র দক্ষিণ কোরিয়াকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সাহায্য করি। কিন্তু আমাদের সাহায্যের বিষয় এলে আমি খুব বেশি চাপ দিইনি। শুধু বলেছিলাম, “আপনারা কি অংশ নিতে চান?”’
‘তারা সবাই বলেছিল, “না, ধন্যবাদ।” আর আমি বলেছিলাম, “আমি এটা মনে রাখব,”’ যোগ করেন ট্রাম্প।
উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন রেখেছে। তবে পুরোনো মিত্রদের নিয়ে ট্রাম্পের বারবার সমালোচনা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এদিকে সংবিধান অনুযায়ী এক মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালনের সুযোগ না থাকলেও সেই মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করবেন না বলে জানিয়েছেন লি। সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগী আগ্রহ প্রকাশ করার পর তাকে ঘিরে সমালোচনা বাড়ছিল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লির অনুমোদনের হার রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। আবাসননীতি, বিতর্কিত কয়েকটি নিয়োগ এবং শেয়ারবাজারের অস্থিরতা নিয়ে মানুষের অসন্তোষ বাড়ায় তার জনপ্রিয়তায় এই পতন হয়েছে।







