ভারত, অভিষেক শর্মা
সেঞ্চুরির পর ব্যাট ও হেলমেট উঁচিয়ে উদযাপন ছবি: সংগৃহীত

রান তাড়ায় আগের দুই ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর সিরিজের শেষ ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠল ভারত। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি করে আফগানদের নাভিশ্বাস উঠিয়ে দেন তিনি।

রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে ভারতকে বড় সংগ্রহ এনে দেন অভিষেক। পরে জ্বলে উঠেন বোলাররাও। তাতে আফগানিস্তানকে মাত্র ৯৪ রানে গুটিয়ে ১২৭ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় ভারত। হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পুড়তে হয় রশিদ খানদের।

দিল্লিতে বৃহস্পতিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ২২১ রান করে ভারত। জবাবে ১৪.১ ওভারে ৯৪ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেয় ভারত।

ভারতের জয়ের নায়ক অভিষেক। মাত্র ৩৪ বলে ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ৯টি চার ও ১১টি ছক্কা। ৩০ বলে সেঞ্চুরি করে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে দ্রুততম শতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। 

শুরু থেকেই আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হন অভিষেক। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই চার মেরে রানের খাতা খোলেন তিনি। এরপর ফজলহক ফারুকি, মোহাম্মদ নবি, রশিদ খান ও মুজিব উর রহমান—কাউকেই ছাড় দেননি। মাত্র ১৬ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন এই ওপেনার।

পাওয়ার প্লেতেই ভারত তুলে নেয় বিনা উইকেটে ১০০ রান। এর মাঝে অভিষেকের একার রান ছিল ৭৬। টি-টোয়েন্টির প্রথম ছয় ওভারে কোনো ব্যাটসম্যানের এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান।

দশম ছক্কায় ৯৯ রানে পৌঁছানোর পর পরের বলে এক রান নিয়ে ৩০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অভিষেক। মাইলফলক ছোঁয়ার পর ব্যাট ও হেলমেট উঁচিয়ে উদযাপন করেন তিনি। এরপর কিছুক্ষণ মাঠে বসে হাঁটুর ওপর দুই হাত রেখে তার উদযাপনও নজর কাড়ে।

সেঞ্চুরির পরের ওভারেই রশিদ খানের বলে আরেকটি ছক্কা মেরে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অভিষেক। ততক্ষণে ভারতের স্কোর ১০ ওভারে ১৪২। তার বিদায়ের পর অবশ্য প্রত্যাশিত গতিতে রান তুলতে পারেনি ভারত।

অন্য প্রান্তে সঞ্জু স্যামসন ৩৫ বলে ৫০ রান করেন। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটি তুলে নেন তিনি। শেষদিকে শ্রেয়াস আইয়ারের ২০ বলে ২৯ রানের ইনিংসে ভারতের সংগ্রহ ২২১ পর্যন্ত যায়।

রান তাড়ায় শুরুটা ভালোই করেছিল আফগানিস্তান। প্রথম তিন ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩১ রান তুলে নেয় তারা। তবে চতুর্থ ওভারে পরপর রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও সেদিকউল্লাহ আতালকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অক্ষর প্যাটেল।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে আফগানিস্তান। ইব্রাহিম জাদরানের ২৫ রানই হয়ে থাকে দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। শেষ পর্যন্ত ১৪.১ ওভারে ৯৪ রানে গুটিয়ে যায় তারা।

ভারতের বোলারদের মধ্যে নিতীশ কুমার রেড্ডি ও রবি বিষ্ণই নেন তিনটি করে উইকেট। অক্ষর প্যাটেল পান দুটি। একটি করে উইকেট নেন জাসপ্রিত বুমরাহ ও যশ ঠাকুর।

ম্যাচ-সেরা ও সিরিজ-সেরা—দুই পুরস্কারই জিতেছেন অভিষেক শর্মা। তিন ম্যাচে ২২৯ রান করেছেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ২৬৯.৪১। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে তার সেঞ্চুরি এখন ১০টি, যা ভারতের হয়ে বিরাট কোহলির সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। 

ভারতে অনুষ্ঠিত হলেও এই সিরিজের স্বাগতিক ছিল আফগানিস্তান। দিল্লিতে নিজেদের ‘হোম’ সিরিজে তিন ম্যাচেই ভারতের কাছে হারল রশিদ খান-মোহাম্মদ নবির দল।