
রংপুরে মাদকবিরোধী সচেতনতা সমাবেশে আটজন মাদক কারবারি আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা মাদক কারবার করবেন না, অন্যকেও করতে দিবেন না বলে ওয়াদা করেন।
বুধবার (৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে রংপুরের গঙ্গাচড়ার মর্নেয়া ইউনিয়নের মাদকের ট্রানজিট পয়েন্ট তালপট্রি বাজারে মাদকবিরোধী সমাবেশে তারা এই অঙ্গীকার করেন।
মাদক কারবার ছাড়ার ঘোষণা দেয়া ব্যক্তিরা হলেন রংপুরের মর্নেয়া ইউনিয়নের ওমেদুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, নুরনবী মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, নুর জামাল ও লালমনিরহাট সদরের হরিনচড়ার আব্দুর রশিদ ওরফে টাইংড়া।
এ সময় তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন স্থানীয় এমপি রায়হান সিরাজী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান, লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম ফজলুল হক, গঙ্গাচড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুর রহমান, গঙ্গাচড়া থানার ওসি আব্দুস সবুর, হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানার ওসি অশোক চৌহান, লালমনিরহাট সদর থানার ওসি মোহাম্মদ সাদ আহমেদ, গঙ্গাচড়া উপজেলা জামায়াত আমির নায়েবুজ্জামান, মর্নেয়া ইউনিয়নের প্রশাসক মাহমুদুর রহমান, বিএনপির সভাপতি মীর কাশেম মিঠু, খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক, তালপট্রি যুব সংগঠনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোহন মিয়াসহ স্থানীয়রা।
মাদক কারবার ছেড়ে দেয়ার ঘটনাকে ঐতিহাতিক মুহুর্ত উল্লেখ করে এমপি রায়হান সিরাজী বলেন, ‘তালপট্টির চর ভৌগলিকভাবে রংপুরের গঙ্গাচড়ার মর্নেয়া ইউনিয়ন, মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানা ও লালমনিরহাটের খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের হরিনচড়া গ্রামের সীমান্ত ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় মাদকের ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়। সেই টানজিট রুট থেকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ রচিত হলো।’
তিনি বলেন, ‘তারা আর আগামীতে মাদক কারবার করবেন না। সুতরাং কেউ রাস্তা দিয়ে চলার পথে তাদের সাথে ব্যাঙ্গাত্মক কোনো কথা বলবেন না। তারা বলেছেন তাদের বাড়ির ওপর হামলা হয়েছে। এটা কখনো করা যাবে না। এখন তারা আমাদের ভাই। আমরা চাই তারা নতুন জীবন শুরু করুক।’
তিনি মাদক কারবার ছেড়ে দেয়া ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে সুরক্ষা দেয়া ও অন্য মাদক কারবারিদের এ কারবার ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘এখান থেকে অন্য মাদক কারবারিরা উৎসাহ পাবেন। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এই মর্নেয়া মাদকমুক্ত হবে, ইনশাল্লাহ।’
এমপি বলেন, ‘এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য আমি সংসদে কথা বলেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেও কথা বলেছি। খুব দ্রুত সেটা হবে।’
এর আগে স্থানীয় তালপট্রি যুব সংগঠনের উদ্যোগে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক হাজার এলাকাবাসী অংশ নেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








