নিরাপদ সড়ক চাই
নিরাপদ সড়ক চাই। নয়া দিগন্ত

সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে বিভাগের চার জেলায় ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৬৭৮ জন। গড়ে প্রতিদিন একজনের বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

Advertisement

সর্বশেষ গত অক্টোবর মাসে সিলেট বিভাগে ২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নয়জন মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী।

বুধবার (৪ নভেম্বর) নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির প্রকাশিত অক্টোবর মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিসচার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগের চার জেলায় ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১৫ জন নিহত ও ৬৭৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩২টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন, মার্চে ২৯টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন, এপ্রিলে ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন, মে মাসে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৫১ জন, জুনে ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন, জুলাইয়ে ২৮টি দুর্ঘটনায় ৩১ জন, আগস্টে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন, সেপ্টেম্বরে ২৬টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন ও অক্টোবরে ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন।

দশ মাসের পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মে মাসে। ওই মাসে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত হন। এরপর আগস্টে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত হন। মার্চ ও জুলাইয়ে যথাক্রমে ৩২ ও ৩১ জন প্রাণ হারান।

অক্টোবরে সিলেটে সর্বোচ্চ প্রাণহানি
অক্টোবর মাসে বিভাগের চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সিলেট জেলায়। জেলাটিতে ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া সুনামগঞ্জে দু’টি দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত ও তিনজন আহত, মৌলভীবাজারে চারটি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও তিনজন আহত এবং হবিগঞ্জে ছয়টি দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। অক্টোবরে নিহত ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ, তিনজন নারী ও ছয়জন শিশু।

যানবাহনভিত্তিক হিসাবে নিহতদের মধ্যে নয়জন মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী, পাঁচজন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টমটমের চালক-আরোহী, ছয়জন বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও চারজন পথচারী ছিলেন।

মুখোমুখি সংঘর্ষে বেশি প্রাণহানি
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, অক্টোবরে মুখোমুখি সংঘর্ষের নয়টি ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন উল্টে যাওয়ার পাঁচটি ঘটনায় পাঁচজন, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে ধাক্কায় দু’টি ঘটনায় দু’জন প্রাণ হারিয়েছেন।

এর আগের মাস সেপ্টেম্বরেও মুখোমুখি সংঘর্ষের আটটি ঘটনায় নয়জন নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন উল্টে যাওয়ার আটটি ঘটনায় ছয়জন, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে ধাক্কায় একজন নিহত হন।

বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিংয়ে ঝুঁকি
নিসচার প্রতিবেদনে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য করে বেপরোয়া ওভারটেকিং, অনুমোদনহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন মহাসড়কে চলাচল, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, পথচারীদের অসচেতনতা এবং সড়ক নির্মাণের ত্রুটিকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মিশু জানান, পাঁচটি স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম, দু’টি জাতীয় দৈনিক ও নিসচার সিলেট বিভাগের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সড়কে মৃত্যুরোধে চালকদের বেপরোয়া ও প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। একইসাথে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারে বাধ্য করা এবং সড়কের ত্রুটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।