
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী মাইশা মুসফিরাতের (২২) করুণ মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সহপাঠীর মৃত্যুর খবরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে রাখেন। এতে পুরো এলাকায় চরম যানজট ও যাত্রীভোগান্তির সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয়া হলে সন্ধ্যায় জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
নিথর দেহ দেখে মায়ের আহাজারি
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় মাইশাসহ তিনজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাইশা। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা সালমা আক্তার।
কান কান্নাজড়িত কণ্ঠে মায়ের প্রতিক্রিয়া
‘৫ম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় আমার মেয়ের বাবা মারা যায়। কত কষ্ট করে এতটুকু এনেছি আল্লাহ আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে নিয়ে গেছে।’
‘পড়াশোনার সুবিধার্থে খালার বাসায় থাকতো মাইশা। সেখানে খালাতো ভাই বোনদের প্রাইভেট পড়াতো।’
‘সর্বশেষ সোমবার রাতে ফোনে কথা হয়েছিল। ২মিনিট কথা বলার পর মাথা ব্যাথার কারনে ফোন রেখে দেয় মাইশা। আজ সকালে ভার্সিটি থেকে ফোন করে দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়।’
‘আমার মেয়ে পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিলো। তার স্বপ্ন ছিলো সিএ করবে। ভালো চাকুরি করবে। মায়ের স্বপ্ন পুরণ করবে। আমার মেয়েকে আল্লাহ নিয়ে গেলো।’
নিহত মাইশা মুসফিরাত মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া এলাকার সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তারের মেয়ে। তিনি আইআইইউসি-র ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কদিন আগেই উদযাপিত হয়েছিল জন্মদিন
মাইশার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ স্বজনেরা। স্বজন দিদারুল আলম কান্না চেপে বলেন
‘ভাই, মাইশার বয়স মাত্র ২২ বছর। কদিন আগেই শুক্রবার দিন ওর জন্মদিন করলাম। আত্মীয়-স্বজন সবাইকে দাওয়াত দিলাম। আজ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে দেখি, আমাদের মেয়ে মাইশা আর বেঁচে নেই।’
শিক্ষার্থীরা অবরোধ করলেন মহাসড়ক ও রেলপথ
দুর্ঘটনার পর পরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়ক ও ঘাতকদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় লেন এবং সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করেন। এর ফলে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ট্রেন চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
দীর্ঘ সাত ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
সন্ধ্যায় বাদ মাগরিব মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়ায় নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মাইশা মুসফিরাতের দাফন সম্পন্ন হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








