সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন গাজীপুর সিটি প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন গাজীপুর সিটি প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। নয়া দিগন্ত

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের এই সংযম ও সদিচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন থেকে সরে এসে কাজে ফেরার এবং শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মো: শওকত হোসেন সরকার।

Advertisement

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগের মাধ্যমে দাবি মূল্যায়ন ও সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই এই মুহূর্তে আন্দোলন অব্যাহত না রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।’

সোমবার (২ নভেম্বর) গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানা সরেজমিনে পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শ্রমিক ও কর্মচারীদের সাথে কথা বলে তাদের দাবি ও সমস্যার খোঁজখবর নেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সিটি প্রশাসক বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে পুঁজি করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে নাশকতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ প্রক্রিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বিজিএমইএ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ অবস্থায় সরকারের উদ্যোগের প্রতি আস্থা ও সম্মান রেখে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়া উচিত। শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শ্রমিক, মালিক ও দেশের অর্থনীতি— সব পক্ষই উপকৃত হবে।’

গাজীপুর সিটি প্রশাসক বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। তবে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের নাশকতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

শিল্পকারখানার নিরাপত্তা, শ্রমিকদের সুরক্ষা ও শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার কথাও জানান সিটি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ‘শিল্পাঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে কারখানার সামনে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন।’