অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী
সিলেটে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। নয়া দিগন্ত

অপপ্রচার ও পরিকল্পিত উসকানির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট জানান, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও জমি দখলের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

Advertisement

সোমবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, অত্যন্ত কঠিন এক সঙ্কটের মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের শিল্প-কারখানা ও সাধারণ মানুষের জীবনে সঙ্কট তৈরি হয়। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

রিজভী বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু পরাজিত শক্তি দেশের বাইরে থেকে এবং কিছু রাজনৈতিক দল দেশের ভেতর থেকে নতুন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে উসকানি দিচ্ছে।’ 

তিনি যোগ করেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছে বলেই সরকার নীতিগতভাবে গণতান্ত্রিক সহনশীলতা ও ‘দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন’ নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে।

শ্রমিক অসন্তোষ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, পতিত শক্তি ও বিরোধী গোষ্ঠীর ইন্ধনে শ্রমিকদের উসকে দিয়ে রাস্তায় নামানো হচ্ছে। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, যা থেকে এই চক্রান্ত স্পষ্ট হয়। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব’ সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, মাত্র আট মাসের একটি সরকার যখন অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে দিনরাত কাজ করছে, তখন এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি করে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন শেষে বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়াই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য এম এ মালিক, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।