অবৈধ বাঁধ অপসারণ
অবৈধ বাঁধ অপসারণ। নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদীতে অবৈধ বাঁশের বাঁধ ও কারেন্ট জালের ফাঁদে দেশীয় মাছের পোনা নিধন এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে।

Advertisement

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নদীতে অভিযান চালিয়ে আড়াআড়িভাবে নির্মিত অবৈধ বাঁশের বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক মহলদারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মাথাভাঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্থানে নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয় বলে জানা গেছে।

রোববার দৈনিক নয়া দিগন্তের ৭ম পৃষ্ঠায় ‘মাথাভাঙ্গা নদীতে বাঁশের বাঁধ ও কারেন্ট জালের ফাঁদ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁশ, চাটাই ও চিকন সুতার জাল দিয়ে আটকে নির্বিচারে মাছ শিকারের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ডিমওয়ালা মাছ ও ছোট মাছের পোনা নিধন এবং নাব্যতা সঙ্কট বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে দামুড়হুদা উপজেলার সুবলপুর গ্রামের একটি স্কুলের পাশের বাঁশবাগানের নিচে মাথাভাঙ্গা নদীতে বিশাল একটি বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও উঠে আসে। স্থানীয় লক্ষণ হালদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওই বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ ছিল। এছাড়া নদীর বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয়রা।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার আশঙ্কা ও কারেন্ট জালে দেশীয় মাছের পোনা নিধনের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নদী ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা।

সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে অভিযান চালিয়ে নদীতে আড়াআড়িভাবে নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে নদী রক্ষা ও দেশীয় মাছের প্রজনন সংরক্ষণে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল মাছ শিকারের জন্য নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে অবৈধভাবে বাধ নির্মাণ করেছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৎস্য অধিদফতরের সহযোগিতায় সেই বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসন ও স্থানীয় এলাকাবাসী আরো বেশি সতর্ক থাকবে। কোথাও এ ধরনের বাঁধ নির্মাণের খবর পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।