মিঠামইনে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে হামলা, পুলিশসহ আহত ১৫
নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়। নয়া দিগন্ত

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিয়েবাড়ি থেকে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বর যাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মিঠামইন থানার পুলিশ এসে হামলাকারীদের নিভৃত করতে চাইলে এক পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। 

Advertisement

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কাটখাল গরুর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কনের স্বজনদের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে।

আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো: কাউসার মিয়া। অন্য আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ এলাকায় স্বপন মিয়ার সঙ্গে বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের বিয়ে হয়। শনিবার দুপুরে বিয়েবাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে নবদম্পতিকে নিয়ে কনের স্বজনেরা বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তাদের বহনকারী অটোরিকশা কাটখাল গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে চরকাটখাল এলাকার অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া তাদের সঙ্গে থাকা এক স্বজনকে ধাক্কা দেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে দয়াল মিয়া ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন অটোরিকশাচালক তাদের ওপর হামলা চালান। এতে কনের পরিবারের ১৪ জন আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও হামলা চালালে পুলিশ সদস্য কাউসার মিয়া আহত হন।

বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করেন, দয়াল মিয়া কাটখাল গরুর হাট এলাকার অটোরিকশা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর নেতৃত্বেই কনের স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় তাঁদের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আহত ১৪ জনকে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দয়াল মিয়ার স্ত্রী রূপ নাহার। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে সাইড দেওয়ার জন্য তাঁর স্বামী অটোরিকশার হর্ন বাজান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাইজচরের লোকজন তাঁর স্বামীর ওপর হামলা চালান। তাঁর স্বামীকেও হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল গাফফার বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে দয়াল মিয়া ও তার লোকজন পুলিশের ওপর হামলা করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।