
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০২০-এর জন্য বিভাগ থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেয়েও চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের প্রভাষক সানজিদা আক্তার। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা লঙ্ঘন করে তার বিভাগের অন্য এক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালে স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেস অনুষদভুক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে ইউজিসি মেধাবৃত্তিও পান এই শিক্ষক।
সংবাদ সম্মেলনে সানজিদা আক্তার জানান, ২০২০ সালে ৩.৯২ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য বিভাগ থেকে তাকে মনোনীত করে ডিন কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালের ১৮ জুন ইউজিসির একটি পুনঃযাচাইয়ের চিঠিতে তিনি দেখতে পান তাঁর পরিবর্তে অন্য এক প্রার্থীর নাম ও নম্বর পাঠানো হয়েছে।
তৎকালীন বিভাগীয় প্রধানের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে সাবেক উপ-উপাচার্যের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় দুই প্রার্থীর সিজিপিএ সমান হওয়ায় এবং কোর্সভিত্তিক প্রকৃত নম্বর না পাওয়ায় একটি গাণিতিক ফ্যাক্টর ব্যবহার করে নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী, সিজিপিএ সমান হলে কোর্সভিত্তিক প্রকৃত নম্বর এবং পরবর্তীতে উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বিবেчনার নিয়ম রয়েছে। নীতিমালায় কোনো গাণিতিক ফ্যাক্টর ব্যবহারের বিধান নেই বলে দাবি করেন সানজিদা।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে প্রকৃত নম্বর না পেয়ে পরে বিভাগের সহায়তায় ৬৩টির মধ্যে ৪৫টি কোর্সের নম্বর সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত নথির তুলনামূলক বিশ্লেষণে তিনি অপর প্রার্থীর চেয়ে ৪০ দশমিক ২৫ নম্বর বেশি পেয়েছেন বলে দাবি করেন। নম্বর সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাটতির দায় কেন তাকে নিতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি নিরপেক্ষ পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান। এ বিষয়ে গত ৯ আগস্ট ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ৩১ অক্টোবরের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও পুনরায় চিঠি ও ই-মেইল পাঠিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বিএমবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল শোয়েব বলেন, ‘সানজিদাকে প্রথম মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে আমি অবগত আছি। তবে বিষয়টি এখন ইউজিসি যাচাই করবে। সকল কোর্সের নম্বর বিভাগে থাকে না, অনেক নন-মেজর কোর্স থাকে যা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাওয়া যেতে পারে।’
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. ফারুক মিয়া বলেন, ‘তাদের দুজনের সিজিপিএ সমান ছিল এবং সকল কোর্সের প্রকৃত নম্বর না থাকায় কমিটির সবাই মিলে একটি স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খুরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সানজিদা আক্তার আমার কাছে আসার পর বিষয়টি পুনরায় যাচাইয়ের জন্য ডিনের কাছে পাঠানো হয়। ডিন মহোদয় ইউজিসির গাইডলাইন অনুযায়ী তা আবার যাচাই করে আমাদের কাছে পাঠালে আমরা তা ইউজিসিতে পাঠিয়েছি। মূলত বিভাগ থেকে তথ্য ডিনদের কাছে আসার পর কমিটির যাচাই-বাছাই ও সুপারিশের ভিত্তিতেই রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে মনোনয়ন পাঠানো হয়।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। আর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো: মাহবুব হোসাইন জানিয়েছেন, বিভাগ থেকে যেভাবে ডেটা এন্ট্রি করা হয়, সেভাবেই তাদের কাছে সংরক্ষিত থাকে; এক্ষেত্রে তাদের দপ্তরের করণীয় কিছু নেই।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








