দুই পর্বে কেক কেটে সিলেটে নয়া দিগন্তের ২২তম বর্ষপূর্তি উদযাপন
দুই পর্বে কেক কেটে সিলেটে নয়া দিগন্তের ২২তম বর্ষপূর্তি উদযাপন। নয়া দিগন্ত

সিলেটে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ও জনপ্রিয় জাতীয় গণমাধ্যম দৈনিক নয়া দিগন্তের ২২তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

Advertisement

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতের দীর্ঘ সময়জুড়ে সিলেট প্রেসক্লাবের আমিনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বাংলাদেশ এডিটরস কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির সদস্য মুকতাবিস উন নূর।

শীর্ষ নিউজ ও গ্লোবাল টিভি সিলেটের প্রতিনিধি কবি হেলাল নির্ঝরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর সিলেটের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বক্তব্যে জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সংবাদপত্রকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে দুই পর্বে কেক কেটে সবাইকে নিয়ে বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়। নয়া দিগন্তের এই আয়োজনে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য গণমাধ্যমের প্রসঙ্গ ছাড়িয়েও রাজনৈতিক অম্ল মধুর উত্তাপে আলোচিত হয়ে উঠে।

বিএনপির নেতারা বলেন, ফ্যাসিবাদ আমলে কারাগারে জামায়াত-বিএনপির নেতারা একই টিফিনের খাবার ভাগ-বাটোয়ারা করে খেয়েছেন। একই সেলে গাদাগাদি করে থেকেছেন। কারাগারে নির্যাতিত দুই দলের নেতাদের মধ্যে এক অপূর্ব মিল-মহব্বত ও ভালোবাসা ছিল। আজ সেটা হারিয়ে যাবে কেন? তারা সরকারি দল ও বিরোধী দলের ঐক্য ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

বিরোধী দল সবখানে দলীয়করণ করছে বলে যে অভিযোগ তুলেছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন বিএনপির নেতারা। তারা বলেন, সরকারের সমালোচনা করেন গণতান্ত্রিক ভাষায়। কারো কোনো উস্কানিমূলক আচরণে জড়িয়ে পড়া ঠিক নয়।

বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ-এর পরিবর্তে এখন সবার আগে বিএনপির কর্মসূচি চলছে। ক্ষমতায় গিয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের রক্তের  চেতনা ভুলে গেছে সরকার। অনেক সময় সমালোচনাও সহ্য করতে পারছে তারা। আগের ফ্যাসিবাদের মতো অনেক কিছু আবার ফিরে আসছে। এরকম পরিস্থিতি কারো জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।

দুই দলের নেতারাই বক্তব্যে বাংলাদেশে আর আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে দেয়া হবে না বলে অঙ্গীকার করেন।

দৈনিক নয়া দিগন্তকে ফ্যাসিবাদের নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার সংবাদপত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন দু’ দলের নেতারা। তারা বলেন, যেভাবে নয়া দিগন্ত অতীতে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে, আগামীতে গণতান্ত্রিক পরিবেশে পত্রিকাটিকে আরো বেশি ভূমিকা রাখতে হবে।

সরকারি দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাংলাদেশ গড়ার সহযাত্রী হিসেবে নয়া দিগন্তকে দেখতে চান বলে উল্লেখ করেন। 

প্রবীণ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর দুই দলের নেতৃবৃন্দকে হুঁশিয়ার করে বলেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে জনগণের মনের ভাষা বুঝতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। দেশের মানুষ একটা পরিবর্তন চেয়েছে। সরকারি দলের নেতাদের সেটা বেশি করে উপলব্ধি করতে হবে। 

স্বাগত বক্তব্যে নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো চিফ আবদুল কাদের তাপাদার বলেন, নয়া দিগন্তের শহীদ সাংবাদিক এ টি এম তুরাব হত্যা মামলা আড়াই বছর ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফাইলবন্দী হয়ে আছে। হত্যার আসামি পুলিশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা সরকারের জামাই আদরে দিন পার করছে। তিনি অবিলম্বে তুরাব হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানান।

বক্তব্যে একই দাবি জানান বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন।

বর্ষপূর্তি উদযাপনের এই জমজমাট আয়োজনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা: জিয়াউর রহমান চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস-এর পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসাইন চৌধুরী, যমুনা পেট্রোলিয়ামের পরিচালক কবি সালেহ আহমদ খসরু, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও জৈন্তাপুরের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ও সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা ইমরান আলম, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ কেমুসাস-এর সাধারণ সম্পাদক কথা সাহিত্যিক সেলিম আউয়াল, ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম সাজু, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি বদরুদ্দোজা বদর, সিলেট প্রেসক্লাব সদস্য ও বিশ্ব বাংলা সম্পাদক কবি মুহিত চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম আলো, বিএনপি নেতা আলমগীর আসাদ, বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা ও মদনমোহন সরকারি কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, মদনমোহন সরকারি কলেজের সিনিয়র শিক্ষক লেফটেন্যান্ট মনির উদ্দিন, প্রাচীন সাহিত্য সংগঠন সাইক্লোন-এর সভাপতি ভ্রমণ কাহিনি লেখক মোয়াজ আফসার, দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো চিফ কবির আহমদ, দৈনিক মানবকণ্ঠের সিলেট ব্যুরো চিফ ও সিলেট বেতারের মহানগর সংবাদদাতা আমজাদ হোসাইন, দৈনিক ইনকিলাবের সিলেট ব্যুরো প্রধান ও সিলেট প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ফয়সাল আমিন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, প্রাচীন সাহিত্য সংগঠন সিলেট লেখিকা সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক কবি ও সংগঠক ইশরাক জাহান জেলী, প্রকাশনী সংস্থা চৈতন্য-এর কর্ণধার রাজিব চৌধুরী, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সিনিয়র রিপোর্টার কাউসার চৌধুরী, দৈনিক বণিক বার্তার সিলেট প্রতিনিধি নূর আহমদ, দৈনিক একাত্তরের কথার বিশেষ প্রতিনিধি রাজু আহমদ, দৈনিক জালালাবাদের সিনিয়র রিপোর্টার মুহিবুর রহমান, দৈনিক ভোরের ডাক-এর সিলেট ব্যুরো চিফ আবদুল হান্নান, সিলেট বেতারের সংবাদদাতা ফারুক আহমদ, দুর্নীতিমুক্তকরণ ফোরাম বাংলাদেশ-এর সদস্য সচিব মকসুদ হোসেন, দৈনিক নয়া দিগন্তের ওসমানীনগর সংবাদদাতা মুহিব হাসান, দোয়ারাবাজার সংবাদদাতা সোহেল মিয়া, গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা আমির উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য শেখ আবদুল মজিদ, বালাগঞ্জ উপজেলার সাবেক সংবাদদাতা রেজাউল ইসলাম স্বপন, সাংবাদিক এনদাদুর রহমান জিয়া, সাংবাদিক ইসা তালুকদার। 

সাংবাদিক সোহেল মিয়ার কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। 
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নয়া দিগন্ত সিলেট ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার এম জে এইচ জামিল, স্টাফ ফটোগ্রাফার জয়নাল আবেদীন আজাদ। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পেরে প্রতিনিধি ও ফুল পাঠিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল্লাহ আল মামুন, সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) ড. চৌধুরী সাদেক যাবের।