
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, ‘দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সঙ্কট দূর করতে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে হবে। যাদের মাত্র তিন-পাঁচটি গরু বা শতাধিক হাঁস-মুরগি আছে তারাই যেন এই উদ্যোগ নেন।’
তিনি বলেন, ‘বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে সরকার সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবে। এতে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। যা একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের কর্তব্য।’
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল গ্রামে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট পরিদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের যুব সমাজকে এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসতে বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুবক-যুবতিরা হলো দেশের অন্যতম সম্পদ। এই সম্পদকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে কাজ করছে যুব উন্নয়ন অধিদফতর। প্রায় ৮৩টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। বায়োগ্যাস প্লান্টও সেই উদ্যোগের প্রতিফলন। আজকের এই উদ্যোক্তার মতো সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে এ ধরনের আত্মকর্মসংস্থান ও সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে জ্বালানি গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন হচ্ছে। এই প্লান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ঘরে ঘরে প্লান্ট গড়ে উঠলে গ্যাস ও সারের মতো বিদ্যুৎ সঙ্কট নিরসনেও সহযোগিতা হবে। এতে উদ্যোক্তারা নিজেরা কর্মসংস্থান পেয়ে ও অন্যদের গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিয়ে উপকার করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন, যা দেশপ্রেমিক নাগরিকের দায়িত্ব।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ করতে চায়। সেই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যে স্টেডিয়ামগুলো আছে সেগুলো আধুনিকায়ন করে খেলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। যাতে যুব সমাজ মাদকসহ সকল অপরাধ থেকে মুক্ত থাকতে পারে এবং ক্রীড়া নৈপুণ্য বিকাশের সুযোগ পেয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলাধুলায় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুব সমাজকে চলমান বিশ্বের সাথে উপযোগী করে গড়তে আমরা ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। এজন্য এআই-সহ প্রযুক্তিগত সব বিষয়ের উৎকর্ষ সাধনে প্রশিক্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যাতে দেশে থেকেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে স্বাবলম্বী হতে পারে। সেইসাথে আগামী প্রজন্মকে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যোগ্য করে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সংক্রান্ত শিক্ষা কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ এর সুফল পাবে।’
অনুষ্ঠানে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে সরকারি ঋণ বাবদ জেলার পাঁচজন উদ্যোক্তাকে এক লাখ ৫০ হাজার করে মোট সাড়ে সাত লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। একইসাথে গ্যাসের চুলায় আগুন জ্বালিয়ে উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুলের বায়োগ্যাস প্লান্টের সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নীলফামারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হুমায়ুন কবির, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার ও উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুল বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী জেলা যুব ও ক্রীড়া অধিদফতরের উপপরিচালক বিলগির আলম এবং সঞ্চালনা করেন সৈয়দপুর উপজেলা যুব ও ক্রীড়া কর্মকর্তা মতিউর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা ও সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব হায়াত আলী জাফরী, বিএনপির সহ-সভাপতি এস এম ওবায়দুর রহমানসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি ও যুব উদ্যোক্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর হাত থেকে ঋণের চেকপ্রাপ্ত উদ্যোক্তরা হলেন— নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী নিলুফা বেগম ও জলঢাকার পশ্চিম গোলমুন্ডার মমিনুর রহমানের স্ত্রী মমতা ইয়াসমিন, ডাউয়াবাড়ির মরহুম ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সোহরাব হোসেন, খারিজা গোলনার ওলিয়ার রহমানের ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান ও কালকেউট মীরগঞ্জের মোশফিকুর রহমানের ছেলে বকুল হোসাইন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








