গ্রেফতারি পরোয়ানা 
গোবিন্দগঞ্জে দোকানিকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের মামলায় ওলামাদল নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা । নয়া দিগন্ত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তালুককানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর বাজারের এক মনোহারি দোকানিকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চাঁদা দাবি এবং বিকাশের মাধ্যমে দাবিকৃত চাঁদার ৪০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওলামাদল নেতা আনিছুজ্জামান বিদ্যুতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিজ্ঞ আদালত। 

Advertisement

বিদ্যুৎ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ওলামাদলের সাধারণ সম্পাদক।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর বাজারের মনোহারি দোকানি সঞ্জয় কুমার সাহা গত ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা ৩৫ মিনিটে দোকান বন্ধ করে প্রতিদিনের মতো বাড়ি ফেরার পথে ওই এলাকার আলিফ কোচিং সেন্টারের সামনে পৌঁছালে আনিসুজ্জামান বিদ্যুৎসহ ৪ ব্যক্তি তার পথরোধ করে ধরে ফেলে এবং কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে পাশের একটি গাছের বাগানের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে তারা ওই ব্যক্তির গলায় ধারালো ছুরি ঠেকিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তার কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু সঞ্জয় সাহার কাছে টাকা না থাকায় চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে বেদম মারধর করে এবং জিম্মি করে সেখানে আটকে রাখে। এ সময় ভয়ে তিনি তার বোনকে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বললে তার বোন ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু এর পরও তার কাছে আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করে এবং এ বিষয়ে মামলা না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পর আনিছুজ্জামান বিদ্যুৎসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

গত ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ পিবিআই, গাইবান্ধার এলআইসি শাখা থেকে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত বিকাশ স্টেটমেন্ট, কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং সিম নিবন্ধনের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব নথি মামলার দালিলিক আলামত হিসেবে জব্দ করে জব্দতালিকা প্রস্তুত করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার আসামি আনিছুজ্জামান বিদ্যুৎ ও যতীশ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের বিজ্ঞ বিচারক গত রোববার (২৫ অক্টোবর) তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।