রায়হান হত্যা
সিলেটে রায় শেষে রায়হানের মায়ের আক্ষেপ। নয়া দিগন্ত

‘দীর্ঘ ছয় বছর পর আজ রায় ঘোষণা হলো। কিন্তু এই রায় শুনে আমি কী করব? আমার রায়হানকে যারা নির্যাতন করে মেরেছে, তারা তো পালিয়ে গেছে।’ সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার সময় এমন ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তার মা সালমা বেগম।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে একজনেরও জামিন হয়নি। কিন্তু ২০২৫ সালে মামলার আর্গুমেন্ট শেষ হওয়ার পরও কীভাবে প্রথম তিনজন আসামি জামিন পান? জামিন পেয়ে তারা কীভাবে পালিয়ে যান? আজ শুধু কাগজে-কলমে রায় হলো। আসামিরা শাস্তি না পেলে আমার ছয় বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে যাবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রায় ঘোষণার দিনেও সালমা বেগমের মনে স্বস্তির বদলে আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় হয়ে ওঠে। তার কাছে বিচার শুধু রায় ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং অপরাধীদের সাজা কার্যকর হওয়াই প্রত্যাশা।

রায় ঘোষণার পর ছেলের হত্যার বিচার নিয়ে নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে সালমা বেগম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, রায়ে সন্তুষ্ট আমি। আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর চাই। প্রধান অভিযুক্ত আকবর হোসেনের ফাঁসির রায় কার্যকর হলে আমরা শান্তি পাব। রায়হানের আত্মাও শান্তি পাবে।

২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনের শিকার হন রায়হান আহমদ। পরদিন তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে প্রধান আসামি বহিষ্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঞাকে মৃত্যুদণ্ড, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন অর রশীদকে যাবজ্জীবন এবং অপর তিন আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে ছয় আসামির মধ্যে একমাত্র আশেক এলাহী কারাগারে রয়েছেন; বাকি পাঁচজন পলাতক। ফলে রায় ঘোষণার পরও দণ্ডিতদের শাস্তি কার্যকর হওয়া নিয়ে সালমা বেগমের অপেক্ষা রয়ে গেছে।