সুন্দরবনের পশুর নদে কয়লাবোঝাই কার্গো ডুবি, ১০ নাবিক উদ্ধার
ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ এমভি ফুল বাড়ী। ফাইল ছবি

সুন্দরবনের পশুর নদে অন্য একটি নৌযানের ধাক্কায় এক হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লাবোঝাই এমভি ফুল বাড়ী নামে একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া জাহাজটির নয় নাবিকসহ অন্য জাহাজের এক নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া জাহাজটি উদ্ধারে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। এর আগে, সোমবার রাতে হারবাড়িয়া-সংলগ্ন সুন্দরীর কোঠা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

মোংলা বন্দর সূত্র জানায়, হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ইয়াস জুপিটার থেকে কয়লাবোঝাই করে এমভি ফুল বাড়ী ঢাকার বাদামতলীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথে পশুর চ্যানেলের সুন্দরীর কোঠা এলাকায় পৌঁছালে এমটি জান্নাতুল ফেরদৌস নামে একটি তেলবাহী বাঙ্কারের সাথে সেটির সংঘর্ষ হয়। এতে কয়লাবাহী কার্গোটির তলা ফেটে সেটি ডুবে যায়।

ডুবে যাওয়া কার্গোটির সুকানি মো: সাকিব কাজী জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা হিরণ পয়েন্ট থেকে কয়লা নিয়ে মোংলার দিকে আসছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা তেলবাহী বাঙ্কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের জাহাজে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে জাহাজের তলা ফেটে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে।

তিনি বলেন, ‘আমরা জাহাজটি দ্রুত তীরের দিকে নেয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু তীরে পৌঁছার আগেই এটি ডুবতে শুরু করে। তখন উপায় না পেয়ে আমরা সবাই লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে লাফ দিয়ে সাতরে পার্শ্ববর্তী আরেকটি জাহাজে আশ্রয় নিই।’

এদিকে অন্য নৌযান এমটি জান্নাতুল ফেরদৌসের লস্কর মো: নয়ন শেখ বলেন, ‘নোঙ্গরের (অ্যাঙ্কর) ত্রুটির কারণে তাদের বাঙ্কারটি হঠাৎ সরে মূল চ্যানেলে চলে আসে। আমি সামনে এসে লাইট দিয়ে সংকেত দেয়ার চেষ্টা করলেও তার আগেই ধাক্কা লেগে যায়। ওই ধাক্কায় আমি ছিটকে গিয়ে ডুবতে থাকা এমভি ফুলবাড়ীর উপর গিয়ে পড়ি।’

দুর্ঘটনার পর রানীয়া-১৩ নামের আরেকটি জাহাজ ডুবে যাওয়া কার্গোর নয় নাবিক ও এমটি জান্নাতুল ফেরদৌসের লস্কর মো: নয়ন শেখকে উদ্ধার করে মোংলায় নিয়ে আসে। বর্তমানে তারা বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখা কার্যালয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।

বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, হিরণ পয়েন্টের মাদার ভেসেল থেকে কয়লাবোঝাই করে জাহাজটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে এসেছিল। তবে ডুবে যাওয়া জাহাজটি নদীর কিনারার দিকে থাকায় বর্তমানে অন্যান্য নৌযান চলাচলে বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর মো: শফিকুল ইসলাম সরকার জানান, জাহাজটি মূল চ্যানেলের বাইরে ডুবেছে। ফলে বন্দর চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং নৌযান চলাচলও স্বাভাবিক আছে। জাহাজটি দ্রুত উদ্ধারের জন্য এর মালিকপক্ষকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।