সেতু, স্কুল, গড়াই নদী, ভোগান্তি
ছয় বছরের শেষ হয়নি ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ। নয়া দিগন্ত

রাজবাড়ীর নাদুরিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী মো: আবদুল্লাহকে প্রতিদিন নৌকায় গড়াই নদী পার হয়ে যেতে হয় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেতু নির্মাণ হলে বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে ১০ মিনিট লাগবে এ ভেবে সেই স্কুলে ভর্তি হয় সে। তবে তার স্কুলজীবন প্রায় শেষের দিকে চলে এলেও এখনো শেষ হয়নি সেতুর কাজ।

Advertisement

তার সাথে কথা হলে সে বলে, ‘সেতু নির্মাণের আশায় বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। তখন ভেবেছিলাম, সেতু চালু হলে বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে মাত্র ১০ মিনিট লাগবে। কিন্তু স্কুলজীবন প্রায় শেষ হলেও সেতুর কাজ শেষ হয়নি।’

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার নাদুরিয়া ঘাটে গড়াই নদীর ওপর ৬৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ ছয় বছরের বেশি সময়েও শেষ হয়নি। তিন দফা সময় বাড়লেও ৬৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজ হয়েছে মাত্র ৬০ ভাগ। এতে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৩ জুন সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৩ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পরে তিন দফায় সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ১০ অক্টোবর সময়সীমা শেষ হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৬০ ভাগ। এখন ওই অসমাপ্ত কাজ কবে শেষ হবে তা নিয়ে কোনো তথ্য নেই রাজবাড়ীর এলজিইডিতে।

সেতুটি চালু হলে রাজবাড়ী, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে এবং স্থানীয় মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। তাছাড়াও মাগুড়া ও ঝিনাইদহ জেলার সাথে ঢাকার সড়ক পথে যোগাযোগ কমে আসবে ৬০ কিলোমিটার পথ।

সম্প্রতি নির্মাণ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেতুটির চারটি স্প্যান ও দুটি গার্ডার বসানো বাকি। রাজবাড়ী প্রান্তে মাত্র তিনজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। শ্রমিকসঙ্কটের কারণে কাজের গতি কমেছে বলে জানা গেছে।

লাঙ্গলবাঁধ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজবাড়ী থেকে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পড়তে আসে। নদী পারাপারের সমস্যায় তারা নিয়মিত ক্লাস করতে পারে না। সেতু চালু হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো বাড়বে।’

নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক পিকুল হোসেনের দাবি, নিয়মিত মজুরি না পাওয়ায় ১৫ জন শ্রমিকের মধ্যে ১২ জন কাজ ছেড়ে চলে গেছেন। গত চার মাস ধরে তারাও মজুরি পাননি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আবদুল হামিদ বলেন, ‘সেতুর কাজ শেষ করতে আরো এক বছর সময় লাগবে। সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।’

রাজবাড়ী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মাহমুদ হাসান বলেন, ‘সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতায় কাজের গতি কমেছে। জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ক্ষতিপূরণ পরিশোধের পর সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা যাবে।’