সার পাচার
পঞ্চগড়ে অবৈধ সার পাচার: মাহিন্দ্রসহ ১২০ বস্তা ডিএপি জব্দ, ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ। নয়া দিগন্ত

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সরকারি সার অবৈধভাবে পাচারের ঘটনায় প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। পৌর শহরের সাতখামার এলাকা থেকে ১২০ বস্তা ডিএপি সারসহ একটি মাহিন্দ্র গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। 

Advertisement

এ ঘটনায় বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলারশিপ প্রতিষ্ঠান নুরনবী এন্টারপ্রাইজকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সার বিক্রি বন্ধ ঘোষণা এবং ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা যায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে সাতখামারে নুরনবী এন্টারপ্রাইজের গুদাম থেকে ১২০ বস্তা ডিএপি সার মাহিন্দ্রে তোলা হয়। সারগুলো পার্শ্ববর্তী আটোয়ারী উপজেলার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় সাবেক এক কাউন্সিলরসহ এলাকাবাসী গাড়িটি আটক করেন। 
খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বোদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার ও গাড়ি জব্দ করে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সাতখামার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রবিউল ইসলাম। সরকারি সার বিতরণসংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে নুরনবী এন্টারপ্রাইজকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির সার বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা এবং ডিলারশিপ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহমেদ রাশেদ উন নবী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ, পৌরসভার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রঞ্জু ইসলাম, স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর শাহজাহান আলম সিরাজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা ১২০ বস্তা ডিএপি সার পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রি কিংবা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সার নিয়ে অনিয়ম ও কারসাজি রোধে অভিযান এবং নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করে একই পরিবারের সদস্যদের নামে দুটি ডিলারশিপ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, নুরনবী এন্টারপ্রাইজ ও তানিম এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি সার ডিলারশিপ একই পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 
এ ঘটনায় সচেতন মহলের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একই পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ডিলারশিপ থাকার অভিযোগটি তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিত। 

তাদের প্রশ্ন, একই পরিবারের নামে দুটি ডিলারশিপ থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে কি না এবং এ বিষয়ে আগে কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কি না। সরকারি সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।