
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের রত্নভান্ডার ছয় বছর পর উন্মোচন করা হয়েছে। এতে পাওয়া গেছে সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা!
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টায় খোলা হয় ট্রেজারির দরজা, এরপর সেই ‘রত্নভান্ডার’। সেখানে নয়টি কনটেইনারে ভর্তি ছিল সোনা-রুপা এবং ছয়টি সিলগালা খামে ছিল বৈদেশিক মুদ্রা।
কড়া নিরাপত্তায় এগুলো নিয়ে আসা হয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে।

এরপর মহা উৎসবে শুরু হয় বাছাই, পরিমাপ ও গণনা। এ যেন ‘দ্য গ্র্যান্ড কাউন্টিং’। দিনভর চলে এ কার্যক্রম।
এসব কাজের তত্ত্বাবধান করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।
নিরাপত্তায় ছিলেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য এবং ছয়জন এসআরবি সদস্য।
পরিমাপ ও মুদ্রা গণনার কাজ করেন জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজিদের কর্মীরা। তাদের সহায়তা করেন রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও জুয়েলারি সমিতির ১০ স্বর্ণকার।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় জানানো হয়, ছয় বছরে জমা হয়েছে ১ হাজার ৪৪ ভরি সোনা ও ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা। পাওয়া গেছে প্রায় ৩০টি দেশের অসংখ্য মুদ্রা।
এই তথ্য দেন কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা রূপালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার এ জি এম মোহাম্মদ আলী হারেছী।
এসব সোনা ও রুপার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলামে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া ছয়টি সিলগালা খামে পাওয়া গেছে ৮০টি দেশের মুদ্রা। বৈদেশিক মুদ্রাগুলো ব্যাংকের বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয় তিন মাস পরপর। বাক্সে পাওয়া যায় টাকা-পয়সাসহ সোনা-দানা। খোলার সাথে সাথেই টাকার অঙ্ক হিসাব করে জানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বাক্সে পাওয়া সোনা-দানা পাঠিয়ে দেয়া হয় জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে।
সবশেষ এই রত্নভান্ডারের হিসাব হয়েছিল ২০২০ সালের ১১ মার্চ। ওই সময় প্রায় তিন বছরে জমা হওয়া ৪২০ ভরি সোনা ও ১৮৮ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করা হয়। দাম পাওয়া যায় ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া যায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
২০২০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দানবাক্স খোলা হয়েছে ১৮ বার। কিন্তু সোনা-রুপা পরিমাপ ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনার আয়োজন এবারই প্রথম।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে সব মিলিয়ে জমা আছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। পাশাপাশি মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে এসেছে আরো ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।
কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ দেশজুড়ে পরিচিত। মানত পূরণের আশায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই মসজিদে আসেন এবং দান করেন। এসব দান থেকে পাওয়া অর্থ মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের উন্নয়নসহ মানুষের কল্যাণে খরচ করা হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








