
উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে গাজীপুরের বোর্ড বাজারে অবস্থিত ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব কো-অপারেশন (ওআইসি)-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী গ্র্যাজুয়েটদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘সমাবর্তন কেবল একটি শিক্ষাগত মাইলফলক নয়; এটি গ্র্যাজুয়েট, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দীর্ঘ ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি।’ তিনি গ্র্যাজুয়েটদের সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
শিক্ষামন্ত্রী অতীতে এই ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন স্মৃতির কথা স্মরণ করে আইইউটি-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেও এর ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দিকনির্দেশনায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের যে অঙ্গীকার, তার সাথে আইইউটি-এর লক্ষ্য সংগতিপূর্ণ।’ আইইউটি-তে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকার সার্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন আইইউটি-এর ভিসি অধ্যাপক ড. মো: মামুন বিন ইবনে রিয়াজ। তিনি বলেন, ‘আইইউটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি উৎকর্ষ কেন্দ্র হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. হোসেন আরাবী নূর। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। তারা গ্র্যাজুয়েটদের নৈতিকতা বজায় রাখা এবং আজীবন শিক্ষার মনোভাব ধারণ করার পরম পরামর্শ দেন।
এছাড়া, ওআইসি-এর মহাসচিব ও আইইউটি-এর চ্যান্সেলর ইসমাইল ওল্ড শেখ আহমেদ এক বার্তায় নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য আইইউটি-এর প্রশংসা করেন এবং অব্যাহত সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
এবারের ৩৮তম সমাবর্তনে ওআইসি-এর ১৬টি সদস্য রাষ্ট্র থেকে মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অসাধারণ অ্যাকাডেমিক ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।
এর মধ্যে গ্র্যাজুয়েট সুমাইয়া আহমেদ রানীকে ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’ ও আশফাক সিরাজ শুভ্র, মোহাম্মদ শাফায়াত জামিল, খালিদ হাসান আদোর, আদিবা জাহিন, ফারহান লাবিব ও তাসফিয়াহ মাহমুদকে ‘আইইউটি গোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট কূটনৈতিকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








