
পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ‘১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ যে বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। কেবল সাইনবোর্ড পরিবর্তন করলেই চলবে না; কাজের পদ্ধতি, আচরণ ও নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। সরকারি বরাদ্দে বৈষম্য এবং এলাকার শান্ত পরিবেশ বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা সাধারণ জনগণ আর সহ্য করবে না।’
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে পিরোজপুর সদরের ৪ নম্বর কলাখালী ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচি এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৪ নম্বর কলাখালী ইউনিয়নের আয়োজনে এবং মাসুম সরদারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমান উন্নয়ন বরাদ্দের বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আমাদের সংসদীয় আসনের ২১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় ২০০টি ওয়ার্ডের বিপরীতে মাত্র ২০ লাখ টাকার টিআর বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। অথচ ক্ষমতাসীন বা বিশেষ মহলের এমপিদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও বড় বড় সড়ক নির্মাণের স্কিম। এ বৈষম্য দূর করার জন্যই ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছিল। বর্তমান প্রশাসন বা ব্যবস্থায় যদি সে একই বৈষম্যমূলক আচরণ বজায় থাকে, তবে অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের সাথে এর তফাত কোথায়?’
এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের তীব্র সমালোচনা করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘আজ সংবাদমাধ্যমে চোখ রাখলেই চাঁদাবাজি আর ছিনতাইয়ের খবর দেখা যায়। সাধারণ মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পিরোজপুরের শান্ত পরিবেশ বিনষ্ট করে কেউ যদি অতীতের মতো সন্ত্রাসী রাজত্ব বা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে, তবে পিরোজপুরবাসী তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। অপরাধীদের পরিণাম অতীতেও ভালো হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। আমরা জনগণের সেবক; কোনো ভাগাভাগির রাজনীতি না করে সরকারি প্রতিটি বরাদ্দ প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনকল্যাণমূলক কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে পিরোজপুর সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নজরুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মো: আরিফ মিয়া ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পিরোজপুর সদর উপজেলা সভাপতি মো: আল আমিন ফকিরসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সর্বস্তরের জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
উক্ত র্যালি ও আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








