জান্নাতুত তাজমীন, কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ স্কুলছাত্রী, ধানক্ষেতে লাশ উদ্ধার
স্কুলছাত্রী জান্নাতুত তাজমীন (১৫)। সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে নিখোঁজের চার দিন পর ফসলি জমি থেকে জান্নাতুত তাজমীন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ফসলি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

জান্নাতুত তাজমীন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত এবং বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সাথে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমীন। পরে ওই বান্ধবীর সাথে কক্সবাজারে বেড়াতে যায় সে। সেখান থেকে গত বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে বাবাকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাজমীন জানায়, ‘দুর্বৃত্তরা তাকে আটকে রেখেছে। দ্রুত উদ্ধার করা না হলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলে জানায় সে। তবে কোথায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে, তা জানাতে পারেনি তাজমীন। এর কিছুক্ষণ পর আবদুল আলীম একাধিকবার মেয়ের নম্বরে ফোন করলেও আর সাড়া পাননি। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। মেয়ের সন্ধানে রাতেই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন আবদুল আলীম। পরদিন বৃহস্পতিবার ভোরে লালমাই থানায় গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, সকালে ধানখেতে এক তরুণীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন তারা। লাশের অদূরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

জান্নাতুত তাজমীনের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মেয়েটি রাতে ফোনে কেঁদে কেঁদে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছিল। কিন্তু কোথায় আছে, তা বলতে পারেনি। সকালে এসে থানায় তাকে মেয়ের লাশ দেখতে হলো।

লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাজমীনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের সূত্র ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে।