রেমিট্যান্স যোদ্ধা
প্রবাসী হাসান আলীর কফিন । নয়া দিগন্ত

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আর একটু সুদিনের আশায় দীর্ঘ দুই দশক আগে দেশ ছেড়েছিলেন। ভেবেছিলেন কঠোর পরিশ্রমে ঘোচাবেন সংসারের অভাব। তবে দীর্ঘ ২৪ বছরের সেই লড়াই শেষে নিজ জন্মভূমিতে তার ফেরা হলো ঠিকই, কিন্তু জীবিত নয়—একটি নিথর দেহ হয়ে।

Advertisement

এমনটাই ঘটেছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামের মরহুম উসমান গনির ছেলে হাসান আলী ওরফে পুটুর জীবনে। 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) লাশ নিজ গ্রামে এসে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে কালিয়াবকরী গ্রামের বাতাস। দীর্ঘ দুই যুগ পর প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় জমান স্থানীয় এলাকাবাসী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৪ বছর আগে ভাগ্য অন্বেষণে আফ্রিকায় পাড়ি জমান হাসান আলী। সেখানে হাড়ভাঙা খাটুনির পাশাপাশি এক স্থানীয় নারীকে বিয়ে করে নতুন সংসার গড়ে তোলেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি সন্তানও রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হন হাসান আলী। স্বজনরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর অবশেষে বৃহস্পতিবার তার লাশ দেশে আনা হয়।

হাসান আলীর এই আকস্মিক বিয়োগে শুধু তার দেশের স্বজনরাই দিশেহারা হননি, সুদূর আফ্রিকায় রয়ে যাওয়া তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।