পাটকাঠি
পাটকাঠি। নয়া দিগন্ত

সোনালী আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও এখন কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠছে। পাট কেটে আঁটি বেধে পানিতে জাগদিয়ে আঁশ ছাড়ানোর পর পাটকাঠি রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করছে কলারোয়ার কৃষকরা। 

Advertisement

জ্বালানি, বেড়া, মাচা, ও বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি আয়ে এর প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। 

উপজেলার, ঝাপাঘাট, হেলাতলা, দামোদরকাটি, ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বাড়ির উঠান, সড়কের পাশ ও খোলা জায়গায় সারি সারি করে শুকানো হচ্ছে পাটকাঠি। আর এই পাটকাঠি রোদে শুকানোর পর তা বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছে এলাকার কৃষকরা।

দামোদরকাটি গ্রামের কৃষক বাসুদেব কুমার ঘোষ জানান দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করে এবার ১৮০ আঁটি (গল্লা) পাটকাঠি পেয়েছেন। পাট ও পাটকাঠি বিক্রি করে চাষের খরচ উঠে লাভ থাকবে বলে আশা করছেন তিনি। 

হেলাতলা গ্রামের কৃষক করিম জানান, তিনি প্রতি বছর প্রায় দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেন। গত বছর ২০ মন পাট পেয়েছিলেন। এবার ভালো ফলন হওয়ায় প্রায় ২২ মন পাট পাওয়ার আশা করছেন। 
পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি ও সংরক্ষণ করছেন তিনি। 

স্থানীয় কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি আঁটি (গল্লা) পাটকাঠি প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে আঁটির আকার ও শুকানোর মান ও ক্রেতার ওপর নির্ভর করে দাম কম বেশি হয়।

কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস এম এনামুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় তিন হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আবাদ হয়েছিল। ইতোমধ্যে অধিকাংশ  জমির পাট কাটা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন এ বছর পাটের ফলন আশাব্যঞ্জক হবে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী সোনালী আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিরও অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। জ্বালানির পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য তৈরির সুযোগ রয়েছে। ফলে পাটকাঠিকে অবহেলা না করে সংরক্ষণ ও বানিজ্যিকভাবে ব্যবহার করলে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারেন। 

কৃষকের কাছে পাট শুধু সোনালী আঁশ নয়-পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের সম্ভবনাময় সম্পদ।