পলাতক ডাচ বাংলা অ্যাজেন্ট ব্যাংকের পরিচালক মো: ওমর ফারুক রাজু
পলাতক ডাচ বাংলা অ্যাজেন্ট ব্যাংকের পরিচালক মো: ওমর ফারুক রাজু। নয়া দিগন্ত

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের তাফালবাড়ি বাজার ডাচ বাংলা অ্যাজেন্ট ব্যাংকের পরিচালক মো: ওমর ফারুক রাজুর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ডিপোজিট করা প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তাফালবাড়ি ডাচ বাংলা অ্যাজেন্ট ব্যাংক বন্ধ রেখে ব্যাংক পরিচালক রাজু এখনো লাপাত্তা। এদিকে রাজু পালিয়ে যাওয়ার খবরে গ্রাহকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও উত্তেজনা।

অভিযুক্ত পলাতক রাজু সাউথালী ইউনিয়নের পূর্ব সোনাতলা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো: শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে।

ভুক্তভোগী তাফালবাড়ি বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী মো: রাসেল শরীফ জানান, ২০২১ সালে তাফালবাড়ি বাজারে ডাচ বাংলা অ্যাজেন্ট ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করেন ওমর ফারুক রাজু। ব্যাংক পরিচালনায় রাজু সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বস্ততা অর্জন করে এবং স্থানীয় অসংখ্য নারী-পুরুষদের ওই ব্যাংকে টাকা ডিপোজিট করতে উদ্বুদ্ধ করে।

ডিপোজিটের বিপরীতে লাখে দুই হাজার টাকা লাভ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতো রাজু। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেড় শতাধিক গ্রাহক দেড় লাখ টাকা থেকে ৩৫ লাখ টাকা ডিপোজিট করে। অধিক লাভের আশায় জমাকারীদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরো জানান, তিনি নিজেও তার বোনের আট লাখ ২০ হাজার টাকা জমা রেখেছেন রাজুর ডাচ বাংলা অ্যাজেন্ট ব্যাংকে। তবে, টাকা জমা নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের আসল রসিদ না দিয়ে রাজু তার নিজের হাতে ভুয়া রসিদ তৈরি করে গ্রাহকদের হাতে ধরিয়ে দিতেন। এমনকি মোবাইলে ভুয়া কনফরমেশন ম্যাসেজও পাঠাতেন রাজু। যা গ্রাহকরা কখনো বুঝতে পারেননি।

একই বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী মো: রাসেল মীর জানান, তার কাছে এক ব্যক্তি সাত লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। তিনি সেই টাকা নিজ বাড়ির পাশে ডাচ বাংলা অ্যাজেন্ট ব্যাংকে বিশ্বস্ত রাজুর কাছে জমা রাখেন। এখন শোনেন ব্যাংকের পরিচালক রাজু লাপাত্তা।

বগী গ্রামের খালেক পঞ্চায়েত জানান, তাফালবাড়ি ডাচ বাংলা ব্যাংকে তার তিন লাখ টাকা ডিপোজিট করা রয়েছে। তবে, তাকে যে জমা স্লিপ দেয়া হয়েছে তা নাকি ভুয়া।

একই ঘটনা ঘটেছে খলিল সরদার, বাবুল হাওলাদার, জলিল ফরাজি, ছরোয়ার, বিউটি বেগমসহ প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাহকের সাথে। বিষয়টি ডাচ বাংলা ব্যাংক বাগেরহাট জেলা শাখাকে অবহিত করলে তারা এসে দেখেন, গ্রাহকদের জমাকৃত টাকার বিপরীতে যে জমা রসিদ দেয়া হয়েছে তার অধিকাংশই ভুয়া।

অ্যাজেন্ট ব্যাংকের পরিচালক পালিয়ে যাওয়ার সংবাদে ডাচ বাংলা ব্যাংকের বাগেরহাট জেলা শাখার অ্যাজেন্ট ব্যাংকিং-এর সিনিয়র সেলস ম্যানেজার শেখ ওবায়দুল ইসলামসহ ব্যাংক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ব্যাংক বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেন। ওই সময় গ্রাহকদের ডিপোজিটের বিপরীতের রশিদ দেখেন এবং অধিকাংশ রশিদ ভুয়া বলে চিহ্নিত করেন।

এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন, যদি কেউ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা না রেখে ব্যক্তিগত কারো কাছে জমা রাখেন তার দায়ভার কখনো ব্যাংক নেবে না। এছাড়া ব্যাংকে যাদের টাকা আছে তারা তার সঠিক ডকুমেন্টস দেখাতে পারলে অন্য শাখা থেকে টাকা তুলতে পারবেন। 

এ বিষয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, তাফালবাড়ি ডাচ বাংলা অ্যাজেন্ট ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গ্রাহকদের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরির আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।