সেমিনার
পুষ্টিবিষয়ক সেমিনার। নয়া দিগন্ত

ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে মানুষের আচরণ ভালো হয়, তখন মানুষ সহজে ক্ষতি, ধ্বংসাত্মক চিন্তা করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট-বারটানের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছাদেকুল ইসলাম।

Advertisement

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলার মানুষের খাদ্য বৈচিত্রতা এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করার সময় এই মন্তব্য করেন তিনি। 

ড. ছাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘অপছন্দের হলেও সুষম খাবার খেতে হবে। গুড ফুড খেলে মুডটাও ভালো থেকে। তা না হলে সেটি থাকবে না। মানুষের অপরাধ প্রবণতায় পুষ্টি একক অবদান না রাখলেনও  বেশ কন্ট্রিবিউট করছে। ভালো পুষ্টির প্রভাবে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম— এই সমৃদ্ধ খাবারগুলি যখন খাবেন, তখন আচরণটা হবে খুবই ভালো হবে। এই আচরণ যখন ভালো হবে, তখন সমাজে পাশের মানুষের সাথে আর ক্ষতি করতে পারবে না কেউ। আচরণ যদি ভালো হয়, সহজে ক্ষতি, ধ্বংসাত্মক চিন্তা করতে পারবেন না।’

ড. ছাদেকুল বলেন, ‘যখন আপনি বেশি প্রসেসড ফুড খাবেন, এখানে পুষ্টিটা কমে যাচ্ছে। আসলে খাবারের বিষয়টাই হলো মিনিমাম প্রসেসে খেতে হবে। ম্যাক্সিমাম প্রসেস হলে তার পুষ্টিটা লস হবে। আপনি খাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু পুষ্টি পাচ্ছেন না। যার কারণে অপরাধ প্রবণতা আমাদের বাড়ছে। প্রসেসড ফুড আগে এত ছিল না। এখন প্রসেসড ফুড দিনে তিনবার খাচ্ছেন। যখন-তখনই পাচ্ছেন। দামও বেশি দিচ্ছেন, ওইখানে কোনো দরদামও করেন না। রেড ফিক্সড! আপনি যখন ভালো খাবার কিনতে যাচ্ছেন, তখন অনেক দরদাম করছেন। যতদূর সম্ভব কম প্রসেসড ফুড খাবেন। সেটিই আমাদের জন্য ভালো।’

সেমিনারে ডিসি ইসরাজ জাহান বলেন, ‘আমি ছোটকালে দেখেছি যে একটা ফুলকপির সাইজ ম্যাক্সিমাম এতটুক। আমার হাতের মুঠায়ই আমি নিতে পারতাম। আমাদের আসলে জমি বাড়েনি, জনসংখ্যা বেড়েছে। আর সেই একই জায়গায় আবার এত বড় একটা ফুলকপি হচ্ছে। এটা কি করে সম্ভব? তার মানে এটাতে কতখানি হরমোনাল চেঞ্জ করা হয়েছে। এটাকে সুন্দরভাবে রাখার জন্য, সাদা রাখার জন্য এবং পোকা-মাকড় থেকে মুক্ত করার জন্য কতখানি এর মধ্যে পেস্টিসাইড দেয়া হয়েছে। তাহলে আমাদের স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে, যখন কোয়ান্টিটিটা হচ্ছে, কোয়ালিটিটা কমে আসছে। তার মানে আমাদের পুষ্টি উপাদান কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই কমে আসতেছে।’

ডিসি বলেন, ‘ এই যে হিউজ পপুলেশন বা আমাদের অনেক বড় একটা জনসংখ্যাকে ফিডিংয়ের আয়োজন করার জন্য আমরা আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্যগুলো নষ্ট করে ফেলছি। ফলে শিশুরা দেখা যাচ্ছে যে একধরনের পুষ্টিহীনতাতেই বড় হচ্ছে। সাথে আমাদের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়গুলো আছে, পুষ্টির সাথে সচেতনতার বিষয়গুলো আছে। এই বিষয়গুলোকে আসলে কিন্তু আমরা ওভারলুক করার সুযোগ নেই। সুষম খাবার আমাদের খেতেই হবে বয়স ভেদে।’

বারটানের প্রধান কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো.আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডিসি ইসরাত জাহান। বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা: শাহীনা সুলতানা, বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল হান্নান, আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্যান) হাবিবুর রহমান প্রমুখ।