
ভোলার গ্রামে ঢুকলেই চোখে পড়ে সারি সারি সুপারি গাছ। বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড়, জমির আইল কিংবা রাস্তার দু’পাশ— যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই সবুজের মাঝে ঝুলছে থোকা থোকা হলুদ-সবুজ সুপারি।
একসময় শুধু পানের সাথে খাওয়ার জন্য লাগানো হলেও এখন এই সুপারিই হয়ে উঠেছে ভোলার মানুষের অর্থনীতির বড় শক্তি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তথ্য বলছে, সুপারি উৎপাদনে এখন বরিশাল বিভাগে শীর্ষে ভোলা।
ভোলার মধ্যে চরফ্যাশন উপজেলার অবস্থান একদম উপরে। এটি ভোলার সবচেয়ে বড় উপজেলা- একটি পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই উপজেলা কৃষি ও জেলে-ভিত্তিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রধান ফসলের মধ্যেই আছে ধান, ডাল, আলু, নারিকেল ও সুপারি।
চরফ্যাশনের প্রায় প্রতিটি বসতবাড়িই যেন একেকটি সুপারি বাগান। লালমোহন, গজারিয়া, কর্তারহাটের মতো চরফ্যাশনের হাটগুলোতেও এখন সুপারির জমজমাট বেচাকেনা চলছে। স্থানীয় চাষিরা বলছেন, জেলার ৬৮ হাজার টন উৎপাদনের বড় একটি অংশ আসে চরফ্যাশন ও লালমোহন থেকে।
বিভাগের ছয় জেলায় মোট ২২ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমিতে এক লাখ আট হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে একা ভোলাতেই ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার মেট্রিক টন। যা মোট উৎপাদনের ৬০ শতাংশেরও বেশি।
সুপারি চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর জন্য আলাদা জমি লাগে না। চরফ্যাশনের চাষি শামিম পাটোয়ারী জানান, তার ১৬০ শতাংশ জমিতে সুপারি বাগান আছে। একবার গাছ লাগালে ২০-৩০ বছর ফলন পাওয়া যায়, খরচও কম। অনেক পরিবারে ৫০০-৬০০ গাছ আছে, যা থেকে বছরে তিন-চার লাখ টাকা আয় হয়।
এখন ভরা মৌসুম। আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ— এই তিন মাস চলে সুপারির ভরা বেচাকেনা। শুধু চরফ্যাসন পৌর শহরেই ৩০টি আড়ত আছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ লাখ টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়, মাসে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এর বড় যোগান আসে চরফ্যাশনের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে।
এসব সুপারি চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়, রংপুর, কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে। বর্তমানে আকারভেদে প্রতি বি (৩২০ পিস) সুপারি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আলম ও সমীর কুমান বলছেন, ধান, ইলিশ, নারিকেলের পাশাপাশি সুপারিই এখন চরফ্যাশনের চতুর্থ প্রধান অর্থকরী ফসল। বাড়ির আনাচে-কানাচে থাকা এই গাছই বদলে দিচ্ছে দ্বীপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতি।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








