১১ বছর ধরে ঝুলে আছে গৃহায়নের আবাসন প্রকল্প

 এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)


*  টাকা পরিশোধ করেও প্লট বুঝে পাননি গ্রাহকরা
* হয়নি দৃশ্যমান কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের একটি আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘ ১১ বছর ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে। জমাকৃত অর্থের পুরোটাই পরিশোধ করার পরও প্লট বুঝে না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রাহকেরা। দায়সারা গোছের সামান্য মাটি কাটার পর আর কোনো কাজ এগোয়নি। উপরন্তু প্রকল্পের প্রবেশমুখটি এখন স্থানীয় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের কিছমত জাফরাবাদ এলাকায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এই আবাসন প্রকল্পটি হাতে নেয়। ২৭৬টি প্লট বরাদ্দের পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ৩ ও ৫ কাঠা আয়তনের প্লটের প্রতি কাঠার দর নির্ধারণ করা হয়েছিল সাত লাখ সাত হাজার টাকা। সে হিসেবে তিন কাঠার প্লট ২১ লাখ ২১ হাজার এবং পাঁচ কাঠার প্লট ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। অধিকাংশ গ্রাহকই নির্ধারিত কিস্তিতে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ পরস্পর যোগসাজশে প্রকৃত মাটি ভরাট না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। প্রায় ৪২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালে একটি মামলা করে, যেখানে ৪৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ রয়েছে।
প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বহু মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবী পরিবার। কুয়েতপ্রবাসী ফরহাদ হোসেন বলেন, তিন কাঠার একটি প্লট পাওয়ার আশায় ১৬ লাখ টাকা জমা দিয়েছি এক দশক আগে। কিন্তু কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক মনজুর কাদের চৌধুরী। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সঞ্চয় ও পেনশনের ২১ লাখ টাকা দিয়েও তিনি স্বপ্নপূরণ করতে পারেননি। প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি আজিজুল হক নিজামী জানান, আমার মতো বহুশিক্ষক ঋণ নিয়ে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করে এখন দিশেহারা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের সামনের অংশ ময়লা-আবর্জনায় ভরা, চার দিকে দুর্গন্ধ। কোথাও কোথাও বালুর স্তূপ ছাড়া কোনো দৃশ্যমান ভৌত অবকাঠামো কিংবা সীমানাপ্রাচীর গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘ স্থবিরতার পর চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিলে ১৮ কোটি টাকার নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেয় কর্তৃপক্ষ। তবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমিনুর রহমান জানান, এপ্রিলে আহ্বান করা দরপত্রে বাজারদরের অসঙ্গতি থাকায় কোনো ঠিকাদার অংশ নেননি। শিগগির নতুন করে সময়োপযোগী দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং আগামী বছরের মধ্যে প্লট হস্তান্তরের লক্ষ্য রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, এত দিন ধরে কেন প্রকল্পটি ঝুলে রয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম থাকলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের দ্রুত প্লট বুঝিয়ে দিতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।