যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, সরিষাবাড়ী (জামালপুর)
যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংগৃহীত

দীর্ঘ সাত মাস বন্ধের পর দেশের বৃহত্তর ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল) চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনার তীরবর্তী তারাকান্দি এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে আবারো গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে তিতাস গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় উৎপাদনে ফেরার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে ইউরিয়া সার কারখানাটি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে কারখানাটির স্যুট-আপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কারখানাটির উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান (জিএম অপারেশন) ফজলুল রহমান রতন।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে কারখানাটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। দৈনিক এক হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া ও এক হাজার ৭৮ মেট্রিক টন আমোনিয়া উৎপাদনে সক্ষম কারখানাটি। তবে, গ্যাস সঙ্কটের কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড যমুনা ফার্টিলাইজারে পুনরায় গ্যাস সংযোগ দিলে উৎপাদনে ফেরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি। তবে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আবারো গ্যাস সঙ্কটে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বন্ধের সাত মাস পর ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে পুনরায় যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

যমুনা ফার্টিলাইজারের উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল রহমান রতন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ সাত মাস পর গ্যাস সরবরাহ পেয়ে রোববার দুপুর ১২টা থেকে স্টার্ট-আপ কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ফলে যমুনা সার কারখানাটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে।

তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী আট থেকে ১০ দিনের মধ্যে  ইউরিয়া সার উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে যেকোনো মেশিনের ত্রুটি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ত্রুটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সফলভাবে উৎপাদনে যেতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানাটিতে দীর্ঘদিন পর আবারো গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

কারখানার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। কোনো সমস্যা না হলে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যমুনা ফার্টিলাইজার লিমিটেডের ইউরিয়া উৎপাদন পুরোপুরি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯১ সালে যমুনা ফার্টিলাইজারে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটি দৈনিক প্রায় এক হাজার ৭০০ মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে উৎপাদন শুরু হলেও গ্যাস সঙ্কট, কারখানার বয়স ও যন্ত্রপাতির দুর্বলতার কারণে বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা কিছুটা কমেছে।

যমুনা ফার্টিলাইজারে উৎপাদিত ইউরিয়ার বড় দানা হওয়ায় এটি কৃষকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, যমুনা সার যেখানে এক বস্তা লাগে, অন্য কারখানার সার সেখানে দেড় বস্তা প্রয়োজন। ফলে যমুনা ফার্টিলাইজারে উৎপাদিত ইউরিয়া ব্যবহারে লাভবান হন কৃষক।

জানা যায়, যমুনা ফার্টিলাইজারের উৎপাদিত ইউরিয়া সার জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ১৯টি জেলার কৃষকদের ইউরিয়া সারের চাহিদা মিটিয়ে থাকে।