
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন ৫৯১টি মুস্তাহিক পরিবারের মাঝে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকার যাকাত তহবিল হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বালাপাড়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা মাঠে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) ও গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এ তহবিল হস্তান্তর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি (কি-নোট স্পিকার) হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিজেডএম-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ রশিদ আল মাজিদ খান সিদ্দিকী মামুন ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী, দক্ষিণ বালাপাড়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামান, জীবিকা উন্নয়ন বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) এনামুল হক ও লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলা প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ রশিদ আল মাজিদ খান সিদ্দিকী মামুন বলেন, ‘সিজেডএম ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ লাখ মানুষকে বিভিন্ন সেবা প্রদান করেছে। ২০২৫ সালে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় পাঁচ বছর মেয়াদী জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২২টি তৃণমূল সংগঠনের মাধ্যমে ৬০০টি উপকারভোগী পরিবারের সদস্য দুই হাজার ৬০৪ জন।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রথমে ৫৯১টি পরিবারের মাঝে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকার তহবিল হস্তান্তর করা হয়। পরে দ্বিতীয় তহবিল হস্তান্তরের মাধ্যমে ৮৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। অর্থাৎ, দুই ধাপে মোট এক কোটি ৭৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার তহবিল হস্তান্তর করা হবে। এই জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদে ৬০০টি পরিবারের জন্য মোট চার কোটি ৬০ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয় করা হবে।’
প্রধান অতিথি (কি-নোট স্পিকার) সিজেডএম-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, ‘সিজেডএম এ পর্যন্ত দেশের ২৯টি জেলার ৪৬টি উপজেলায় ৭৫টি জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। যার আওতায় ৩৫ হাজার ২৭৬টি পরিবারের মোট এক লাখ ৫০ হাজার ৮৮৯ জন সদস্য উপকৃত হয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সমাপ্ত প্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, সুবিধাভোগী পরিবারের গড় মাসিক আয় আট হাজার ৭০৪ টাকা থেকে বেড়ে ২৮ হাজার ৬২৫ টাকায় উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ ২২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রায় ৩০ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করে যাকাতদাতায় রূপান্তরিত হয়েছে।’








