বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে
বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে নয়া দিগন্ত

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি কারখানার ভেতরে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি লড়িতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে উড়ে আসা একটি সিলিন্ডারের আঘাতে মোসা: জয়নব বেগম নামে এক নারী দোকানি নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় এক শিশুসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। আহতদের উদ্ধার করে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

‎রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় প্রীতি গ্রুপের এস স্যুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক নামে কারখানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

‎এদিকে, আগুনের খবর পেয়ে ডিইপিজেড ও জিরাবো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।

‎এ ঘটনায় নিহত জয়নব বেগমের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তিনি ওই কারখানার পাশেই একটি টেইলার্সের দোকান দিয়ে ব্যবসা করতেন।

এ ‎ঘটনায় আহতরা হলেন— নিটিং সেকশনের হাফিজুল খান, ফিনিশিং সেকশনের সোনিয়া, ক্লিনার রেহেনা, আনসার সদস্য মাসুদ রানা, গাড়িচালক সুলতান, শিশু ইব্রাহিম (নিহত নারীর সাত বছর বয়সী নাতি), শিবেন হাওলাদার, ফরিদ ইসলাম, নূর ইসলাম, সুজন, নজরুল, সাইফুল ইসলাম, জাহিদুল, ইসরাফিল, ববিতা, লিমন, সামিউল, রেহেনা ও রাসেল সিকদারসহ অন্তত ২০ জন। এদের মধ্যে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নূর ইসলাম, সুজন ও নজরুলকে ঢামেকে রেফার্ড করা হয়েছে।

‎আহতদের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজন জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে জীবন বাঁচাতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে থাকি। কিন্তু এরপরেও আমরা অনেকে আঘাত পাই, দগ্ধ হই। আমাদের অনেকের হাত ভেঙে গেছে, পা ভেঙে গেছে, অনেকে পুড়ে গেছে। এছাড়া বিস্ফোরণের ধাক্কায় পাশের রাস্তায় থাকা রিকশাচালকসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে বয়লার বা পাইপের লোহার খণ্ড উড়ে গিয়ে পাশের বাড়িঘর ও রাস্তায় পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
‎​
‎এদিকে, বিস্ফোরণের পরপরই পাশের একটি কাপড়ের দোকানের ভেতর সিলিন্ডার উড়ে এসে দোকানি জয়নব বেগমের উপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

‎ওই কারখানার এডমিন ম্যানেজার মো: হেমায়েত নিশ্চিত করে জানান, কারখানার ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

‎নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ও আহত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাদের সমস্ত শরীর দগ্ধ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়েছে।

‎ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪-এর উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, প্রীতি গ্রুপে আগুন লেগেছে পৌনে ৭টার দিকে, এমন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। প্রথমে জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিস থেকে দু’টি ইউনিট পাঠানো হয়। আগুনের ভয়াবহতা থাকায় ডিইপিজেড থেকে আরো দু’টি ইউনিট আসে।

পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট একযোগে কাজ শুরু করে। এখানে এসে পাঁচ-ছয়টি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেখা যায়। রাত ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে এলপিইজি সিলিন্ডার ছিল সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিত না। আগে খতিয়ে দেখব এরপর বলা যাবে।

‎শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম বলেন, কারখানার গেটের সামনে থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কারখানার ভেতরে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের কোম্পানির পরিত্যক্ত একটি জায়গায়। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।