
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বাড়ছে। হত্যা, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও নানা ধরনের অপরাধের পাশাপাশি নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিশু নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো মানুষের জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সরকার সেই দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয় বাদ দিয়ে সর্বমন্ত্রণালয়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিন দিন আরও অবনতি ঘটছে।’
তিনি রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর জামায়াতের দায়িত্বশীল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মু. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। অথচ ক্ষমতায় এসে বিএনপি আওয়ামী ফ্যাসিবাদী স্টাইলেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। জনগণ পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা নিয়ে রাজপথে নেমেছিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সেই প্রত্যাশা আজ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসনের ফলে পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট অপশক্তি দেশে নাশকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করলেও সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না।’
মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন— মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী, নগর জামায়াত নেতা উপাধ্যক্ষ আব্দুশ শাকুর, অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, মু. আজিজুল ইসলাম, শফিকুল আলম মফিক, ক্বারী আলাউদ্দিন, শামীম আহমদ, রফিকুল ইসলাম মজুমদার, প্রকৌশলী শাহজাহান কবির রিপন ও মু. শাহেদ আলী প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষ আজ জানমাল ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিশু নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা, নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অবৈধ অস্ত্র ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। অপরাধ দমনে শুধু মামলা ও গ্রেফতার নয়, অপরাধের নেপথ্যের হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যেন তার বিচারের পথে বাধা না হয়। জনগণের জানমাল ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।







