জিও ব্যাগে থামছে না পদ্মার ভাঙন

 এম মনিরুজ্জামান রাজবাড়ী 
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জিও ব্যাগ ফেলেও থামানো যাচ্ছে না পদ্মার ভাঙন। নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ে দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে কবরস্থান, বাজার, মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বসতবাড়ি ও শত শত বিঘা তিন ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন পাঁচ শতাধিক পরিবারও।
স্থানীয়রা জানান, গত দুই-তিন দিনের ভাঙনে নদীপাড়ের প্রায় ৫০-৬০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে মুন্সিবাজারসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বসতবাড়ি টিকে থাকাই দায় হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে অনেকেই পরিবারসহ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভাঙন ঠেকাতে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গত দুই বছরে ঠিকাদারের মাধ্যমে এই এলাকায় প্রায় ২৪ হাজার জিও ব্যাগ ফেলেছে। চলতি বছরও ছয় হাজারের বেশি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এখনো বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। তবে নদীর স্রোতের টানে জিও ব্যাগগুলো ধসে পড়ে এবং নদীতে বিলিন হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিতভাবে এবং দায়সারাভাবে নিম্নমানের বালু দিয়ে জিও ব্যাগ তৈরি করে নদীতে ফেলছে। ফলে সেগুলো স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে পারছে না। 
দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম এলাকার নদী শাসন আন্দোলনের সদস্যসচিব মো: জামাল মুন্সি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে জিও ব্যাগ ফেলায় সেগুলো কোনো কাজেই আসছে না। বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন শুরু হওয়ার পর তীরের উপরি ভাগে বস্তা ফেলা হয়। অথচ শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে জিও ব্যাগ ফেলার দাবি জানানো হলেও তা তারা করছে না। তিনি টেকসই নদী শাসনের দাবি জানান। সরেজমিন মঙ্গলবার দেখা যায়, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে ফেলা জিও ব্যাগের অনেকগুলোই স্রোতের টানে ভেসে গেছে।
স্থানীয় লোকমান সরদার, মোজাম্মেল শেখ, শহিদুল ইসলাম, নাজমুল শেখ, মজিদ সরদার ও আমেনা খাতুন বলেন, নদীর নিচ থেকে জিও ব্যাগ না ফেলায় স্রোতের টানে উপরের বস্তাগুলো ধসে যায়। ইতোমধ্যে অনেকের ভিটেমাটি বিলীন হয়ে গেছে। রাজবাড়ী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: তাজমিনুল রহমান বলেন, দেবগ্রামে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।